চাঁদপুরে পুলিশের সাথে অবৈধ সম্পর্কে বেপরোয়া মামলাবাজ নারী: ফাঁসছে নিরপরাধরা

129
চাঁদপুরে পুলিশের সাথে অবৈধ সম্পর্কে বেপরোয়া মামলাবাজ নারী: ফাঁসছে নিরপরাধরা
চাঁদপুরে পুলিশের সাথে অবৈধ সম্পর্কে বেপরোয়া মামলাবাজ নারী: ফাঁসছে নিরপরাধরা

চাঁদপুর প্রতিনিধি: রহস্যময়ী এক নারী, যিনি পান থেকে চুন খসলেই কোর্টে কিংবা থানায় এসে করেন একের পর এক মামলা। আবার নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তার এসব মামলায় ফেঁসে যাচ্ছে নিরপরাধ মানুষ। এমন এক মামলাবাজ নারীর খোঁজ মিলেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে। মতলব উত্তর থানার সাবেক এস.আই ইদ্রিসের সাথে অবৈধ সম্পর্কে মামলাবাজ ঐ নারী হয়ে উঠেছে আরো বেপোরোয়া।

উপজেলার ফতেহপুর পূর্ব ইউনিয়নের রসুলপুর শাহবাজকান্দি গ্রামের নুরুল হকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার মনি। মনি এলাকায় মামলাবাজ নামেও পরিচিত।  এস.আই ইদ্রিসের সাথে অবৈধ সম্পর্ক জেনে তার প্রতিবাদ করায়, মনির আক্রোশের শিকার হয় খোদ তার আপন ভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাবী মুক্তা বেগম। শুধু তাই নয়, ভাই-বোনের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া-বিবাদ থামাতে গিয়ে মিথ্যা মামলার আসামী হয় মনি’র ভাইয়ের নির্মানাধীণ ভবনের শ্রমিক জিসান, রাসেল ও রনি।

গেলো বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে নিজের ভাবী মুক্তা বেগমের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাগান্বিত  হয়ে শ্রমিকদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ছুড়ে ফেলে দেয় মনি। এতে শ্রমিকদের সাথে তর্ক-বিতর্কের বেশ কিছুদিন পর ধর্ষণ চেষ্ঠা মামলা করে বসে মামলাবাজ ঐ নারী। গোপনে মামলা পরিচালনা করে নোটিশ ছাড়াই অসহায় ৩ শ্রমিককে গত ২৭শে জানুয়ারী গভীর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রানুযায়ী, সেদিন দুপুরে মনিকে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্ঠার কথা উল্ল্যেখ থাকলেও মনির ভাবী মুক্তা বেগমের ধারণকৃত সেদিন দুপুরে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ঐদিন মনি গোসল করছিলো আর নিজেদের মধ্যে তর্কে জড়াচ্ছিলো। এসময় বাড়ির আশেপাশের প্রতিবেশিদেরও উপস্থিতি ছিলো। কিন্তু দিনে-দুপুরে এমন ঝগড়া কিভাবে আদালতে ধর্ষণ চেষ্ঠা মামলা বনে যায়, এ নিয়ে সমালোচনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা।

মুখ খুললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী আর মনির মনগড়া এমন ভূঁয়া গল্পের মামলার জেরেই বিনা দোষে কারাগারে ঠাঁই হয় তিন নির্মান শ্রমিকের। বর্তমানে অসহায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে দিন-মজুরদের স্বল্প আয়ে চলা পরিবারগুলো। চরম অভাবে পতিত পরিবারগুলো নিরপরাধ ছেলেদের ন্যায় বিচারের আশায় কান্নায় প্রহর গুনছেন নিত্যদিন। বিজ্ঞ আলাদাতের কাছে নিরপরাধ ছেলের জামিন চাইছেন অভুক্ত পরিবার সহ স্থানীয়রা।

এদিকে, নিজের মনগড়া জীবনের বিরুদ্ধাচারণ করায় নিজের আপন মামা শাহাজাহান ও ভাবী মুক্তা বেগমকেও ধর্ষণ চেষ্ঠা মামলার আসামী বানাতে কুন্ঠাবোধ করেননি মামলাবাজ ঐ নারী। মামলাবাজ মনির মামলা আতঙ্কে এলাকাবাসী মুখ খুলতেও নিজেদের মনে করছেন নিরাপত্তাহীন।

জানা যায়, পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ঐ নারীর ঘরে একাধিক পুরুষের যাতায়াত থাকতো। শুধু এস.আই ইদ্রিসই নয় ঐ এলাকার চিহ্নিত ডাকাত রফিকের সাথেও একসময় হর-হামেশা যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিলো মনির। এমনকি গোপনে মাদক ব্যবসার সহযোগী হিসেবেও মনি কাজ করতো বলে জানা যায়। মনির প্রথম বিয়ে হয় উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাধন ইসলাম সাইফুলের সাথে। তবে পরকীয়া সম্পর্কের আসক্তির জেরে ভেঙ্গে যায় তার সংসার। লুধুয়া গ্রামের আজমের সাথে মনির দ্বিতীয় বিয়ের খবরটিও নিয়েও চলছে গুঞ্জণ।

মনির ভাবী ভুক্তিভোগি মুক্তা বেগম জানায়, তার স্বামী মোহাম্মদ আলী বেপারী সৌদিতে থাকতেন। বাড়িতে দুই শিশুকন্যা আছিয়া ও মরিয়মকে নিয়ে থাকেন মুক্তা বেগম। তবে দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরেও বাড়িতে ঠাঁই হয়নি প্রবাসী স্বামীর। নিজের বাবার সাথে তর্ক-বিতর্কের পরিনামে তারই বোন ফাতেমা আক্তার মনির ইন্ধনে সবার অজান্তেই ঘটে মামলা। নিজের ছেলের বিরুদ্ধে সেই মামলাটি করেন পিতা নুরুল হক।

রাগের মাথায় মোহাম্মদ আলী বিদেশ ফেরত গেলেও গোপনে পরিচালিত মামলায় ফেঁসে যায় তার স্ত্রী মুক্তা বেগম ও অবুঝ দুই শিশু কন্যা। বিনা অপরাধে বাচ্চাসহ ১৫ দিন দুর্বিষহ দুঃখে জেল খাটেন মুক্তা আক্তার। ফিরে এসে শুনেন ক্রোক করা হয়েছে তার বাড়িতে থাকা সব মালামাল। পরে ধারদেনা করে পুরোনো খাট কিনে বাচ্চাসহ চরম কষ্ঠে কাটান ঐ নারী। আর ভুয়া ওই মামলা নিয়ে বর্তমানে মাসের পর মাস চাঁদপুরের কোর্টপাড়ায় ছুটছেন মুক্তা বেগম। গোটা পরিবারটাই একে অপরের উপর মামলা দিয়ে সর্বশান্ত হওয়ার পথে আর এ নিয়ে প্রতিবেশীরাও রয়েছেন চরম অশান্তিতে।

তাই যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত ছাড়া রেকর্ড না করার সরকারের কাছে দাবি সচেতন মহলের।এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, যেকোনো মামলার এফআইআর রেকর্ড করার আগে পুলিশকে বাদীর ব্যাপারে তদন্ত করতে হবে। তাহলেই এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা রোধ করা যাবে।