শিবগঞ্জে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ছয় কর্মীকে অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার

119
শিবগঞ্জে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ছয় কর্মীকে অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার
শিবগঞ্জে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ছয় কর্মীকে অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিএনপির ছয়জন নেতাকর্মীকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আলী আহম্মেদ বাবু, হাসান আলী, শিপলু হক, মাহিদুর রহমান, আহাদ আলী ও সেলিম রেজা। তারা চলমান নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ওজিউল ইসলাম ওজিলের পক্ষে মাঠে কাজ করছিলেন।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে হয়রানিমূলক গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সৈয়দ মনিরুলকে জেতাতে তার ভাই ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করছে।

শিবগঞ্জ পৌরসভার আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ওজিউল ইসলাম ওজিল মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। এর আগের দিন সোমবার ওজিল এক সংবাদ সম্মেলন করেও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

অভিযোগে ওজিল বলেন, শিবগঞ্জে অতীতে কখনোই নির্বাচনে সহিংসতা হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম নির্বাচনে একদিকে যেমন সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে ভয় আর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছেন। নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থক নেতাকর্মী যাতে মাঠে না থাকতে পারেন। সৈয়দ মনিরুল সহিংসতা সৃষ্টি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিএনপি প্রার্থী অভিযোগে আরও বলেন, গত দুই রাত আগে সৈয়দ মনিরুলের ক্যাডার বাহিনী পৌর এলাকার দুটি স্থানে ককটেল ফাটিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সেই অভিযোগে জনৈক কৃষক লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা মামলা করেন। সোমবার রাতে ধানের শীষের নিরপরাধ ছয় নেতাকর্মীকে আটক করে ওই মামলাতে গ্রেফতার দেখিয়ে চালান করা হয়েছে। এই ছয় জন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থীর আরও দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা করতে চাইছেন। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনে জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বিএনপি প্রার্থীর এই অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম।

অন্যদিকে নির্বাচন প্রভাবিত করতে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি শুরু করেছেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করে শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ হোসেন বলেন, যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন, তিনি বিএনপি প্রার্থীর দেওয়া অভিযোগ পেয়েছেন। এই বিষয়গুলি তদন্ত করা হবে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিবগঞ্জে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।