মেয়র পদে বসার পরদিনই হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হলো যুবলীগ নেতার পা

219
মেয়র পদে বসার পরদিনই হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হলো যুবলীগ নেতার পা
মেয়র পদে বসার পরদিনই হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হলো যুবলীগ নেতার পা

বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী মুক্তার আলী মেয়র পদে বসার পরদিনই তার লোকজন হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজিবর রহমানের (৩২) দুই পা ভেঙে দিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে আড়ানীর রুস্তমপুর-মোমিনপুর ঈদগাহ মাঠের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আজিবর রহমানের আড়ানী পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মুক্তার বাহিনীর ক্যাডার তার আপন শ্যালক রাজন, ছেলে রাজু, অঙ্কুর, সোহান, সেলিম, বকুলসহ ৮-১০ জন এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন আহত যুবলীগ নেতা আজিবর রহমানের স্ত্রী নাজমা রহমান।  

এছাড়া মঙ্গলবার সকালে একটি পোশাকের দোকানে লুটপাট চালিয়েছে মুক্তারের ক্যাডাররা। আড়ানি পৌর সদরের হাফিজুর রহমানের দর্জিবাড়ি নামের একটি পোশাকের দোকান থেকে ছয়টি দামি কোর্ট জোরপূর্বক নিয়ে যায় মুক্তারের ক্যাডার রাজু, রাজন, সোহান, অঙ্কুরসহ ৮-১০ জন। 

এ সময় দোকান মালিক হাফিজুরকে মারধর করা হয়েছে। এছাড়া শপথ গ্রহণের পরই সোমবার সন্ধ্যায় পৌর সদরের গনেশ কুমার দাসের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে হানা দেয় মুক্তারের সহযোগীরা। এসময় ছয়টি মোবাইল ফোন সেট তারা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দোকানের মালিক টাকা চাইলে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় মুক্তারের সহযোগীরা বলেন, ফোনের দাম মেয়র পরিশোধ করবেন। 

এসব ঘটনার আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আড়ানী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রজব আলীকেও মারপিট করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে জানান। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহিদুজ্জামান শাহিদের পক্ষে নির্বাচন করার কারণে মুক্তারের বাহিনী আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। 

এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা বিস্ফোরক মামলার পলাতক আসামি হলেও মুক্তার এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রতিনিয়ত তিনি পৌরসভায় তার কার্যালয়ে বসছেন। মঙ্গলবার সকালেও তিনি পৌর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। পলাতক আসামি হয়েও শপথ নেওয়ার পর মুক্তার ও তার বাহিনীর তাণ্ডব আরও বেড়েছে। অপ্রতিরোধ্য মুক্তারের ক্ষমতার উৎস নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর মাঝে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে মুক্তার আলী জামিন না নিয়ে শপথ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, আমি কীভাবে শপথ নিলাম সেটি কী আপনাকে (সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে) বলতে হবে। এটি প্রশাসন দেখবে। আর শপথ নেওয়ার আগে ও পরে আমার লোকজন কারও ওপর হামলা করেনি। লুটপাট বা অগ্নিসংযোগের সঙ্গেও আমার লোকজন জড়িত না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এসব বিষয়ে আড়ানী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত মেয়রপ্রার্থী শাহিদুজ্জামান শাহিদ বলেন, আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে শঙ্কিত। নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। মুক্তার এবং তার ক্যাডাররা বিস্ফোরক মামলার আসামি। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন অসহায়। অদৃশ্য শক্তি মুক্তারের ক্ষমতার উৎস। মুক্তারের ক্ষমতার ব্যাপারে আমি প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছি না। তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকের কাছে আমি বিচার চাইছি। 

এ ব্যাপারে চারঘাট (বাঘা ও চারঘাট) সার্কেলের সিনিয়র এএসপি নূরে আলম বলেন, মুক্তার আলী জামিন নিয়েছেন কী না আমি জানি না। আর আজকে (মঙ্গলবার) আহত যুবলীগ নেতা আজিবর রহমানের স্ত্রী নাজমা রহমান বাদী হয়ে মুক্তার আলীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।   

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহিদুজ্জামান শাহিদকে পরাজিত করে মুক্তার আলী মেয়র নির্বাচিত হন। বিদ্রোহী প্রার্থী হবার কারণে মুক্তার আলীকে আড়ানী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।