আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শেষ হলো চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারণা

173
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শেষ হলো চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারণা
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শেষ হলো চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারণা

চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শরীয়তপুরের ডামু্ড্যা পৌরসভা নির্বাচন। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শেষ হচ্ছে প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে শেষদিকে এসে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন।

এবার এ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ (নৌকা) মাস্টার কামাল উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (জগ) মো. রেজাউল করিম (রাজা) ছৈয়াল, বিএনপির (ধানের শীষ) নাজমুল হক সবুজ মিয়া এবং মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন মাদবর।

আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থী উভয়েই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ নতুন নতুন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অত্যাধুনিক নাগরিকসেবা সম্পন্ন ডিজিটাল পৌরসভা গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে তার। আর পানীয় জল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপি, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা যায়, ডামুড্যা ডামুড্যার পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দলের মনোনীত প্রার্থী মাস্টার কামাল উদ্দিন আহমেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। দলের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে তাকেই বেছে নিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকেরও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতাকে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোট চাইতে দেখা গেছে।

মাস্টার কামাল উদ্দিন আহমেদ নিজেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জাগো নিউজের কাছে তিনি দাবি করেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নৌকার ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর কল্যাণ এবং শান্তির জন্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত ও পরিকল্পিত পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করবেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম (রাজা) ছৈয়াল জানান, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই পৌরসভার সাবেক মেয়র হিসেবে তিনি পৌরবাসীর সেবা করেছেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে আবারও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে তিনি আশাবাদী।

কিন্তু রেজাউলের অভিযোগ, ‘নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। তারা প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন, মাইক ভাঙচুর করছেন, পোস্টার পুড়ে ও ছিঁড়ে ফেলছেন এমনকি হত্যার হুমকিও দিচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে একের পর এক মামলা দিয়ে কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। জগ প্রতীকের সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ দিলেও রিটার্নিং অফিসার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

এসবের পরেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী নাজমুল হক সবুজ মিয়ার অভিযোগ, তার সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে নৌকার মেয়র প্রার্থীর লোকজন। তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বলা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির এই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের মতে, ভোট সুষ্ঠু হলে তাকে পরাজিত করার শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নেই। সততা ও ন্যায়-নীতির কারণে ভোটাররা তাকে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী করবেন।

এদিকে, ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় সাংসদ নাহিম রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘নির্বাচনের শুরু থেকে পৌরশহরের বিভিন্ন জায়গায় নৌকার প্রার্থী কামাল উদ্দিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সভা-সমাবেশও করছেন তিনি। প্রতিপক্ষের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি।’

ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে এসব কথা উল্লেখ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাজমুল হক সবুজ মিয়া ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম (রাজা) ছৈয়াল।

সার্বিক বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচএম গোলাম মোস্তফা জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার বিষয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি এ পৌরসভায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চার জনের পাশাপাশি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ২৫৯। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ হাজার ২৯৯ জন ও পুরুষ ৫ হাজার ৯৬০ জন।