লাল প্রবাল কুকরি সাপটিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রাজশাহী

162
লাল প্রবাল কুকরি সাপটিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রাজশাহী
লাল প্রবাল কুকরি সাপটিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রাজশাহী

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজারের পরিত্যক্ত একটি ইট ভাটার মাটির ঢিবি কাটতে গিয়ে উদ্ধার করা হয় বিরল প্রজাতীর লাল প্রবাল কুকরি (রেড কোরাল কুকরি) সাপ। উদ্ধারের পর সাপটিকে রাজশাহীর স্নেক রেসকিউ কনজারভেশন সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সাপটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় সহিদুল ইসলাম। তিনি এক জন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারী।

সহিদুল বলেন, ‘গত ৮ ফেব্রুয়ারি কালিয়াগঞ্জ বাজারের পাশের একটি উঁচু জায়গার মাটি এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে কাটার সময় ওই সাপটি বেরিয়ে আসে। এলাকাবাসী আমাকে খবর দিলে সেখানে গিয়ে ওই রেড কোরাল কুকরিসহ সাতটি সাপ উদ্ধার করি।’

বাকি সাপগুলোর মধ্যে দুটি দাঁড়াশ সাপ (র‍্যাট স্নেক), একটি গুইসাপ, দুটি হেলে (বাফ স্ট্রাইপড কিল ব্ল্যাক) সাপ ও একটি কৃষ্ণ কালাচ (ব্ল্যাক ক্রেইট) সাপ।

সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রেড কোরাল কুকরি সাপটি এস্কেভেটরে জখম হয়েছে। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। ৯ তারিখ সাপটিকে রাজশাহীর স্নেক রেসকিউ কনজারভেশন সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সাপটিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেনম রিসার্চ সেন্টারে পাঠানো হবে। অন্য সাপগুলোকে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক ও সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন জানান, সাপটি জখম হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এটিকে চট্টগ্রামে আনা হবে।

বাংলাদেশে এই প্রথম দেখা মিলল লাল কোরাল কুকরি সাপটি। এর জুওলোজিক্যাল নাম অ্যালিগোডন খেরিএনসিস। আর বৈজ্ঞানিক নাম ওলিগোডন খেরিয়েন্সিস

বোরহান বিশ্বাস রোমন জানান, উজ্জল কমলা ও লাল প্রবাল রঙের সাপটি মৃদু বিষধারী ও নিরীহ প্রকৃতির। এটি পৃথিবীর দুর্লভ সাপদের একটি। হিমালয়ের পাদদেশে এদের পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, সাপটি নিশাচর এবং বেশির ভাগ সময় মাটির নিচেই থাকে। মাটির নিচে কেঁচো, লার্ভা, পিপড়ার ডিম ও উইপোকার ডিম খেয়ে জীবনধারণ করে এটি। নরম মাটি পেলে মাটি খুঁড়ে ভিতরে চলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে এর। মাটির ভিতরে থাকার জন্য রোসট্রাল স্কেল (সাপের মুখের সম্মুখ ভাগে অবস্থিত অঙ্গবিশেষ) ব্যবহার করে সাপটি।

সর্বপ্রথম সাপটির দেখা মেলে ১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের খেরি জেলায়। ওই বিভাগের নাম অনুযায়ী সাপটির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয়। ৮২ বছর পর ২০১৯ সালে আবারও খেরি জেলায় দেখা গিয়েছিল লাল প্রবাল সাপটি।

এ ছাড়া নেপালের মহেন্দ্রনগর, চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্ক, ভারতের নৈনিতাল, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় সাপটিকে।