পদক তুলে দিতে না পেরে প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ

134
পদক তুলে দিতে না পেরে প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ

ভাষায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ প্রদান কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এবার তিন ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এই পদক প্রদানের মাধ্যমে মাতৃভাষা পদকের প্রচলন করেছে।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান “মাতৃভাষা পদক ২০২১ ” অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার হাতে পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নিজ হাতে শিক্ষককে পদক তুলে দিতে না পারায় এসময় আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রথম ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক ২০২১’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক ২০২১’ দেয়া হলো। আমার দুঃখ এখানেই থেকে গেলো- আমি নিজে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। বিশেষ করে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম স্যারের হাতে পদক তুলে দেয়া, এটা আমার জন্য কত সম্মানের এবং গৌরবের! কিন্তু আমার দুঃখ, পুরস্কার নিজের হাতে দিতে পারলাম না। স্যার আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে প্রধানমন্ত্রী হলে সব স্বাধীনতা থাকে না। অনেকটা বন্দি জীবনযাপন করতে হয়। সেরকমই আছি। কারণ আমি এক জায়গায় যেতে গেলে আমার সঙ্গে বহু লোক, নিরাপত্তার লোক, অমুক লোক, তমুক লোক, প্রায় হাজারখানেক লোককে রাস্তায় দাঁড় করায়ে নানাভাবে তাদেরকে কাজে লাগায়। তাদের কথা চিন্তা করেই কিন্তু আমি যেতে পারিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের এই গৌরব সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছি। ভাষার অধিকার, পৃথিবীর সব হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংরক্ষণ ও ভাষা গবেষণার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। এখানে ভাষা যাদুঘর করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান।