রাজধানীতে ডাকাতির নেপথ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ

141
রাজধানীতে ডাকাতির নেপথ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ
রাজধানীতে ডাকাতির নেপথ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ

রাজধানীতে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। পেশাদার ডাকাত দলের সঙ্গে মিলেমিশে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য ডাকাতিতে অংশ নিয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের জন্য জঙ্গিরা আগেও ডাকাতি ও ছিনতাই করেছে। নতুন করে তাদের আবার ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলো। সম্প্রতি এসব ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছিল ডাকাত দলের সদস্যরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দা ও সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ মাস পর্যন্ত রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন হাজীপাড়া, মগবাজার, দিলুরোড, মগবাজার ও মালিবাগ এবং শেরে বাংলা নগর থানাধীন পান্থপথ ও রাজাবাজার এলাকায় অন্তত ছয়টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছিল। অবশেষে একটি প্রতিষ্ঠানের খাবার সরবরাহকারী এক প্রতিনিধির সূত্র ধরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচ জন পেশাদার ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। হাড্ডি মোরশেদ, কবির হোসেন মনা, জাহিদ শেখ, আরমান হোসেন ও রাসেল নামের এই পাঁচ ডাকাতকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা। জিজ্ঞসাবাদে এই পাঁচ ডাকাত তাদের সঙ্গে ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেওয়া রহস্যজনক এক যুবকের তথ্য জানায়। পরে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পেশাদার ডাকাত চক্রের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হৃদয় নামে রহস্যজনক ওই যুবককে শনাক্তের পর ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানতে পারে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া পেশাদার ডাকাত দলের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়ে তারাও বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তে পেশাদার ডাকাত চক্রের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানার পর ডাকাতিতে অংশ নেওয়া জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছেন।
জঙ্গি প্রতিরোধে গঠিত সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় আমরা জঙ্গি সম্পৃক্ততার কিছু তথ্য পেয়েছি। আগেও জঙ্গিরা ডাকাতি ও ছিনতাই করে তহবিল সংগ্রহ করতো। এখন আবার এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা ডাকাত দলের সঙ্গে মিশে যাওয়া জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারে ও ডাকাতি প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়া পেশাদার পাঁচ ডাকাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ও অর্ণব নামে এই ডাকাত চক্রের দুই তরুণ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ ও অর্ণব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তারা পান্থপথ, মগবাজার ও দিলু রোডের তিনটি বাসায় ডাকাতির ঘটনায় অংশ নিয়েছিল। তাদের ওই বড় ভাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। তাদেরকেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বলতো। রহস্যজনক ওই বড় ভাই তাদের সঙ্গে প্রয়োজনের বাইরে কোনও কথা বলতেন না। এমনকি ওই বড় ভাই কোথায় থাকেন বা কী করেন সেসম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।
সূত্র জানায়, তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা রহস্যজনক ওই বড় ভাইকেই হৃদয় বলে শনাক্ত করেছেন। হৃদয়ের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়ার পর তার জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তার বিস্তারিত পরিচয় ও জঙ্গি সংগঠনের নাম প্রকাশ করেননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ডাকাতি করে বেড়ানো ওই জঙ্গি সদস্য ও তার একাধিক সহযোগী বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনও সময় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।