বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

84

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকার সংস্থান করেছে সরকার। যদিও দেশে পৌঁছেছে ৯০ লাখ।

সরকার বলছে, ৪০ বছরের ওপরে সব মানুষকে দেয়া হবে টিকা। সেই হিসেবে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি। একজনের জন্য যদি দুটি করে ডোজ প্রয়োজন হয়, তবে মোট টিকা দরকার ৮ কোটি ডোজ।

এর মধ্যে ৪০ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। আর টিকা নিয়েছেন প্রায় ২৮ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখনও পায়নি করোনা প্রতিরোধী টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশের টিকা পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি।

বাজারে আসার আগেই বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ডের ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনে রেখেছিল সরকার। এ ছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশের জন্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক টিকা জোট ‘কোভ্যাক্স’ থেকে আরও ৬ কোটি ৮০ লাখ টিকা প্রাপ্তিও নিশ্চিত করেছে সরকার। এর সঙ্গে আছে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে আসা ২০ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে ১০ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সরকার। এখন টিকাগুলো সময়মতো আসার অপেক্ষা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সিরাম থেকে কেনা ৩ কোটি ডোজ টিকার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আসে গত ২৫ জানুয়ারি। এর আগে ভারতের উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ আসে ২১ জানুয়ারি।

তবে চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও এসেছে ২০ লাখ ডোজ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ভারত এবং বিশ্বজোড়া চাহিদার কারণে সিরাম ৫০ লাখ টিকা পাঠাতে পারেনি। তবে সিরাম এবং বেক্সিমকোকে এ জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মার্চে সিরাম বাড়তি টিকা পাঠিয়ে ঘাটতি পূরণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই চালানে টিকা কম এলেও দেশে টিকা সংকট হবে না জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত করেছে। অবশ্যই সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে দেশের সব জনগণের টিকা নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার ইতিমধ্যে তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্য দেশের এখনও টিকা প্রয়োগ শুরু না হলেও আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত ২৮ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।’

এ বি এম আব্দুল্লাহ জানালেন, কোভ্যাক্সের টিকার প্রথম চালান আগামী মাসের শুরুর দিকেই দেশে আসার কথা রয়েছে। এই বছরের মধ্যে পাইপলাইনে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিয়ে ৫ কোটি মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুল রহমান বলেন, মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ টিকার আওতায় আনতে হলে ২৪ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। এতো বিপুল লোকের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখনই ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে ৪ কোটি টিকা বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যদি ভালো সমঝোতা করতে পারি, তাহলে এ টাকায় আরও ৮ কোটি টিকা কেনা সম্ভব। রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশ করোনা টিকা উৎপাদন করছে, সেই সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। সেটির আলোকেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাপ্লাই-চেইনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও টিকা দ্রুতই আসছে। আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাইকে বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে পারব।’

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের বাইরে টিকার বিকল্প উৎস নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন ‘টিকা সংগ্রহে বিকল্প ভাবনাও রয়েছে। ভারতের বায়োটেক এবং চীনের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করছে। আমাদের এখানে কিছু নতুন সাপ্লাইয়ার আবেদন করেছে। এ বিষয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। সে বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’