শহীদ আফ্রিদির বয়স জানাতে ভুল করেননি

100

শুধু ক্রিকেট নয়, গোটা ক্রীড়া বিশ্বের অমীমাংসিত সব রহস্যের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে বিষয়টা। আর অন্য কোনো ক্রিকেটারের গোটা ক্যারিয়ারে বয়স নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে কি না, এ নিয়ে একটা গবেষণা করা যেতে পারে।

তিনি নিজেও একের পর এক কাজ করে বয়স নিয়ে আলোচনার পালে বাতাস দিয়েছেন। যে আত্মজীবনী লিখেছেন, তাতেও বয়স নিয়ে একেকবার বলেছেন একেক কথা। আজ এই সাবেক অধিনায়কের জন্মদিন।

বিশেষ এই দিন উপলক্ষে দিনের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা টুইট করেছেন। সে টুইটেও নিজের বয়স জানাতে ভুল করেননি।বিজ্ঞাপন

আর স্বাভাবিকভাবেই আফ্রিদির বয়স নিয়ে আরেক দফা আলোচনা শুরু হয়েছে সে কারণেই। টুইটে নিজের বয়সটা আরেকবার সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন আফ্রিদি। লিখেছেন, ‘আজ ৪৪ হলো! সবাইকে ধন্যবাদ যাঁরা আমার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমার পরিবার আর ভক্তরা আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। মুলতানের হয়ে খেলাটা বেশ উপভোগ করছি, আশা করব মুলতান সুলতানসের হয়ে আরও কিছু ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

নিজেই জানিয়ে দিলেন, ৪৪-এ পড়েছেন। সে হিসাবে তাঁর জন্মসাল ১৯৭৭। অথচ এই জন্মসাল নিয়েই কত কাহিনি হলো!

বছর দু-এক আগে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে এক আত্মজীবনী লিখেছিলেন। বইয়ে প্রথমে নিজের জন্মসাল লিখেছিলেন ১৯৭৫। অর্থাৎ, আফ্রিদির যে বয়স রেজিস্ট্রিভুক্ত আছে, সেটি ৫ বছর কম। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হিসাবে আফ্রিদির জন্মসাল ১৯৮০, বয়স ৪১। একই হিসাব আছে তাঁর পাসপোর্টেও।

এই জন্মসাল অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি (তখন ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড) করার সময় আফ্রিদির বয়স ছিল ১৬ বছর। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ওই ম্যাচে টিভি পর্দায় আফ্রিদির বয়স ২১ বছরই দেখানো হয়েছিল।

অর্থাৎ, পরে নিজ আত্মজীবনীতে আফ্রিদি যে জন্মসাল লিখেছেন, (১৯৭৫) তার সঙ্গে ওই বয়সের হিসাবে মিল আছে।

পরে এই নিয়ে মাতামাতি শুরু হলে জানিয়ে দেন, বইয়ের প্রথম সংস্করণে ভুল ছিল কিছু। যার মধ্যে এই বয়স-সংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে। একই আত্মজীবনীর পরবর্তী সংস্করণে আফ্রিদি লিখেছিলেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ইনিংস খেলার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর।

দুবছর পর নিজের জন্মদিনে টুইট করে যেন সেই পরবর্তী সংস্করণের বক্তব্যকেই সমর্থন করলেন যেন। সবাইকে জানিয়ে দিলেন, জন্মসাল ৭৭-এই।

এই অবস্থানে আফ্রিদি নিজে এখন কতটা অনড় থাকেন, দেখার বিষয় সেটাই!