সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে

105

দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু প্রকল্পের উপর জোর দিয়ে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ এনইসি। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ- এনইসির সভায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৬শ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়।

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ফলে বরাদ্দ কমলো সোয়া ৩ শতাংশ। এতে পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে কমেছে বরাদ্দের পরিমাণ। আর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে।

চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি বাস্তবায়নে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি।

এ অনুমোদনে মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, সংশোধিত এডিপিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, নতুন কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় জোর দেয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার মাত্র ২৮ দশমিক ৪৫ ভাগ, যা গেল ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলেও এসময় জানিয়েছেন তিনি।

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কোন খাতে কত বরাদ্দ পেল সে সম্পর্কে সচিব জানান, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ মূল এডিপির ১৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সংশোধিত এডিপিতে ১৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতের বরাদ্দ ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ বেড়ে ২৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা হয়েছে, যা মূল এডিপিতে ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা ছিল। বরাদ্দের এই পরিমাণ মোট এডিপির ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা খাতওয়ারি হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

আর সংশোধিত এডিপিতে ২৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাত। মূল এডিপিতে তা ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ছিল। বরাদ্দের এই পরিমাণ মোট এডিপির ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

মূল এডিপির মত সংশোধিত এডিপিতেও সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন খাতে। তবে মূল এডিপির ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা থেকে তা কমে ৪৯ হাজার ২১৩ কোটি টাকা হয়েছে। বরাদ্দের এই পরিমাণ মোট বরাদ্দের ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

সংশোধনে বিদ্যুৎ খাতের বরাদ্দ মূল এডিপির ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা থেকে কমে ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ১০ শতাংশ।

বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মূল এডিপিতে ১৮ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধনে তা কমে ১১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া সংশোধিত এডিপিতে কৃষি খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা পেয়েছে পানি সম্পদ খাত। আর শিল্প খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সচিব এসময় আরো জানান, এবারের সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৭৮৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৬৪০টি, কারিগরী সহায়তা প্রকল্প ১৪৫টি এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের ১০১টি প্রকল্প রয়েছে।