মৃত্যুর একদিন আগে এইচ টি ইমামের শেষ কথা

100

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) রাতের প্রথম প্রহরে (রাত ১টা ১৫ মিনিট) না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এইচ টি ইমাম। তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। মৃত্যুর একদিন আগে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশান আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা-পূর্ব মুহূর্তে এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম এমপি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘২ তারিখ (মঙ্গলবার) রাতে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর আর তার বাকশক্তি ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘২ তারিখ রাতে বাবা কালেমা, আয়াতুল কুরসি পড়ছেন। আমাকেও পড়তে বলছেন। তার গলার কণ্ঠস্বর নিচু হয়ে গিয়েছিল। শক্তি দিয়ে আওয়াজ করে বলেছেন, হে আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও।’

তানভীর ইমাম বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্যে তার শেষ কথা ছিল, আমি ছেলে-মেয়েসহ সবাইকে রেখে যাচ্ছি। তুমি আমার ছেলেসন্তান। তুমি আমার হয়ে সবার কাছে মাফ চাইবে। সবাই যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।’

এ সময় তানভীর ইমাম মুসল্লিদের বলেন, ‘আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি, আপনারা আমার বাবা এইচ টি ইমাম সাহেবকে মাফ করে দেবেন। দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে দেন, জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

তানভীর ইমাম বলেন, ‘তিনি (এইচ টি ইমাম) শেষ দিন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতেন, লালন করতেন। আমাদেরও সেভাবে চলতে পরামর্শ দিতেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর আমার বাবাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রেখে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।’

জানাজায় আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ও সাবেক সচিব, সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সহকর্মী ও সহযোদ্ধারা অংশ নেন।

কিডনি জটিলতায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মার্চ রাত ১টা ১৫ মিনিটে মারা যান এইচ টি ইমাম। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ হেলিকপ্টারে জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নেয়া হয়। সেখানে আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে এইচ টি ইমামের প্রথম জানাযা হয়।

jagonews24

পরে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এইচ টি ইমামের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।

সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ বনানী গোরস্থানে নেয়া হবে। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হবে। পরে বনানীতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এইচ টি ইমাম।