গোল্ডেন মনিরের অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত

77
গোল্ডেন মনিরের অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত

৮ মার্চ সোমবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র গ্রহণের এই আদেশ দেন।

সেই সঙ্গে আদালত মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১৬ মার্চ তারিখ দিয়েছে।

এ দিন গোল্ডেন মনিরের পক্ষে তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জামিন আবেদন করেন। তবে জামিনের বিরোধীতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিচারের জন্য এই আদালতে বদলির আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।

গত ২০ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির গুলশান বিভাগের পরিদর্শক আব্দুল মালেক।

অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এই আইনে অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে তার।

অন্য দিকে মাদক মামলায় তার বিরুদ্ধে একই তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারায় অভিযোগপত্র দেন। এই মামলাতেও ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এই আইনে অভিযোগ প্রমাণ হলে তার সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

গত বছর ২০ নভেম্বর রাত থেকে র‍্যাব রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসা ঘিরে রাখে। পরেরদিন সেখান থেকে গোল্ডেন মনিরকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে ৬০০ ভরি সোনার গহনা, বিদেশি পিস্তল-গুলি, মদ, ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়, যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

তার ‘অটো কার সিলেকশন’ নামের গাড়ির শোরুম থেকে আরও তিনটি অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় দুই শতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক গোল্ডেন মনির। রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য প্লট হাতিয়ে নেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্লট ও ফ্ল্যাটের কথা স্বীকার করেছেন মনির।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এর আগেও গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এবং রাজউকের একটি মামলা রয়েছে। মনির মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী ও স্বর্ণের চোরাকারবারি। এ থেকেই মনির পরিচিতি পান ‘গোল্ডেন মনির’ হিসেবে।

গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব বাদী হয়ে মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা ও মাদক আইনে তিনটি মামলা করা হয়