রিসোর্টে দম্পতির শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ, টিস্যু বক্সে ক্যামেরা লাগিয়ে

74
রিসোর্টে দম্পতির শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ, টিস্যু বক্সে ক্যামেরা লাগিয়ে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে যান এক দম্পতি। রাত্রীযাপনের জন্য উঠেছিলেন উপজেলার তামিম রিসোর্টে নামেস একটি রেস্ট হাউজে।

কিন্তু রিসোর্টে উঠে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হন এই দম্পতি। রিসোর্টের দুই কর্মচারী টিস্যু বক্সের ভেতরে গোপনে ক্যামেরা লাগিয়ে রাখে। পরে দম্পতির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন তারা।

এ ঘটনায় গেলো বুধবার রাতে ভিকটিম পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই অভিযুক্তকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার চড়িপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে রেজোয়ান (২৩) ও শহরের বিরাইমপুর এলাকার মৃত শফিক মিয়ার ছেলে খালেদ মিয়া (২৭)।

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, গেলো বছরের ২৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলে কুলাউড়া থেকে বেড়াতে যান ওই দম্পতি। রাত্রীযাপনে তারা ওঠেন উপজেলার মৌলভীবাজার সড়কের তামিম রিসোর্টে।

রিসোর্টের দুই কর্মচারী টিস্যু বক্সের ভেতরে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে দম্পতির শারীরিক মেলামেশার দৃশ্য ধারণ করে।ঘটনার কিছুদিন পর একটা মোবাইল ফোনে ওই দম্পত্তির ইমো নম্বরে ফোন করে জানায় তাদের নোংরা ছবি ও ভিডিও আছে। এ ব্যাপারে তারা ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে বলে। পরে গেলো বছরের ২১ অক্টোবর ‘নাদিরা আক্তার রুমি’ নামক একটা ফেইক আইডি থেকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে রিয়াজউদ্দিনের কাছে তাদের গোপন মেলামেশার দৃশ্যের ছবি পাঠায় এবং ছবি ও ভিডিও ফেরত পেতে হলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।

এ ঘটনায় তামিম রিসোর্টের সত্বাধিকারী হারুন মিয়া জানান, কর্মচারীরা কি করছে তা আমার জানা নেই। তারা এক সময় আমার এখানে ছিলো। এখন নাই। খালেদ এস কে ডি আমার বাড়ি রিসোর্টে এখন চাকরি করে আর রেজোয়ান শুনেছি তার বাড়িতে চলে গেছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক তদন্ত হুমায়ুন কবির জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার করেছি। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আসামিদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। এ ঘটনায় মালিকপক্ষের কোনও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।