ঋণ ব্যবস্থাপনায় আইনের খসড়া অনুমোদন

104

জি-টু-জি বা সরকার থেকে সরকার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি, ইনভেস্টর ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায়। এ জন্য ‘সরকারি ঋণ আইন, ২০২১’ নামে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৪৪ সালের পাবলিক ডেবট অ্যাক্ট ছিল, সেটা দিয়ে আমরা চলছিলাম। সেই আইনটি সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও হালনাগাদ করে সরকারি ঋণ আইনের খসড়া হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

এ সংক্রান্ত কাজগুলো বিধিমালা দিয়ে করা হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পিপিপি, ইনভেস্টর ফাইন্যান্সিং, জি-টু-জি সেগুলো আগের আইনে ছিল না। এগুলো নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবার দায়-দায়িত্ব এবং এগুলোর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, রি-পেমেন্ট সিস্টেম সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আইন অমান্যকারীদের জন্য শাস্তির বিধান থাকছে নতুন আইনে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যদি কেউ ফল্ট করে, তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। সরকারের ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত কোনো ব্যক্তি আইন ভাঙলে শাস্তি পেতে হবে। অভিযোগ আসতে হবে সঞ্চয় পরিদফতর বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।’

দণ্ড নিয়ে জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘বিলটিতে আইনের প্রাধান্য, পরিদর্শন, সরকারের ঋণ সম্পর্কে জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সংরক্ষণ ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘খসড়া আইনে প্রয়োজনের নিরিখে সরকারি ঋণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিধান, সরকারি ঋণ অফিসের ভূমিকা নির্দিষ্টকরণ, শরিয়াভিত্তিক সরকারি সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধানাবলী অন্তর্ভুক্তকরণ প্রস্তাব করা হয়েছে।’

এ আইনের মধ্য দিয়ে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছ্বতা আসবে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বিলটি যদি পাস করা হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য অধিকতর আধুনিক প্রক্রিয়ায় ঋণ সংগ্রহ, টেকসই ঋণনীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, ঋণ কৌশলপত্র প্রস্তুত, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ, বাজেট প্রস্তুতসহ সরকারের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন দায় হিসাব করার বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে। ট্রান্সপারেন্ট হয়ে যাবে এবং এক্সটেন্ডেড হয়ে যাবে।’

বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশ বা বিদেশ থেকে সরকার সুদে বা বিনা সুদে ঋণ বা বিনিয়োগ সংগ্রহে ‘সরকার, সরকারি অর্থ, বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯’-এর ২১-এর ধারার বিধান মেনে চলার কথাও নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে বলে জানান সচিব।

ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর সচিবালয় প্রান্তে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা।