মায়ের পরিকল্পনায় সন্তান কর্তৃক পিতাকে খুন

91

গত ০৮/০৩/২০২১খ্রি. জনৈক মোঃ খাইরুল ইসলাম(২৮) নওগাঁ জেলার পোরশা থানায় উপস্থিত হয়ে জানান যে, তার পিতা মোঃ আব্দুল খালেক (৫০), ০৫/০২/২০২১ খ্রি. সকাল বেলা বাড়ীর পাশে আবাদী জমিতে কাজ করার জন্য বের হয়ে যেয়ে আর বাড়ীতে ফিরে আসে নাই। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে পিতার নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্তে পোরশা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

পিতা নিখোঁজের ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরজিডি করতে আসার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে নওগাঁ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার প্রকৌশলী জনাব আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম মহোদয় প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এর প্রেক্ষিতে জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), জনাব কে এম মামুন খান চিশতী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), নওগাঁ’গণের তত্ত্বাবধানে জনাব বিনয় কুমার, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, সাপাহার সার্কেল, নওগাঁ’র বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জনাব মোঃ শফিউল আজম খাঁন, অফিসার ইনচার্জ, এসআই/আমরিন রাশাদসহ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম কালক্ষেপন না করে তদন্ত কাজ করা শুরু করেন।

প্রাথমিক তদন্তকালে নিখোঁজ হওয়ার কোন কারণ খুঁজে না পাওয়ায় এবং ঘটনার দীর্ঘদিন পর থানায় ডায়েরী করায় নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিডির সংবাদদাতা নিখোঁজ ব্যক্তির ছেলে মোঃ খাইরুল ইসলামকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে খাইরুল স্বীকার করে যে, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তার পিতা-মাতার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলমান ছিল। গত ২৭/০১/২০২১ তারিখ ঝগড়া বিবাদের সূত্র ধরে মৌখিক তালাকের মাধ্যমে তার মাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।

মায়ের তালাকসহ বাড়ী থেকে বের করে দেয়ার বিষয় নিয়ে খাইরুল ইসলাম ও তার বোন মিলে তাদের পিতা মাতার বিরোধ মিটানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে মায়ের পরিকল্পনায় রাত্রি অনুমান ০১.৩০ ঘটিকায় পিতার শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে। কিছুক্ষণ পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খাইরুল মোটরসাইকেলে করে তার পিতার বস্তাবন্দি লাশ নিজ কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন শ্রীরামপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার পিছনে লোকজনের অগোচরে ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেয়।

আনুমানিক ১১/১২ দিন পর বস্তাবন্দি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে অবহিত করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানা পুলিশ অর্ধগলিত লাশ হিসেবে সকল আইনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করে।মৃতের ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী, জামাতা নিজেদের বাঁচানোর তাগিদে বিষয়টি গোপন রাখে এবং থানায় জিডি করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু, ভিকটিমের একমাত্র সহোদর ভাই মোঃ জাকির আলম (৪৫) এর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হলে তিনি বারবার তাদের তাগাদা দেয়ায় খাইরুল পোরশা থানায় ০৮/০৩/২০২১ তারিখে জিডি করতে বাধ্য হয়।

নওগাঁ জেলা পুলিশের চৌকস টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমের জিডি হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ক্লুলেস হত্যা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হয়। ঘটনার সাথে জড়িত ৪(চার) আসামী গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডের পরে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি কালো-লাল রংয়ের)সহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। এবং পিতৃ ঘাতক খাইরুল নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।