মশক নিধনে বেশি কার্যকর খালগুলো দখলমুক্ত ও শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন : বিআইপি

131

মশক নিধনে কীটনাশক যতটা কার্যকর, এ ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি কার্যকর খালগুলো দখলমুক্ত করা ও শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বলে দাবি করেছে নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মশক নিধনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আদিল মোহাম্মদ খান। তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম অধিক পরিমাণে কীটনাশকনির্ভর হয়ে পড়ায় মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীর মুক্তি মিলছে না। অথচ বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশা নিধনের বরাদ্দ ব্যয়ের ৯০ ভাগই করে থাকে কীটনাশক কিনতে।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের ব্যয়ের চিত্রও তুলে ধরে বিআইপি। সংগঠনটি জানায়, গত পাঁচ বছরে দুই সিটি করপোরেশনে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৪০ কোটি ৬১ লাখ টাকাই মশা নিধনে ওষুধ কিনতে ব্যয় করা হয়েছে। 

চলতি অর্থবছরও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে; এর মধ্যে কীটনাশক কিনতেই ব্যয় করবে ৪০ কোটি টাকা আর দক্ষিণ সিটিতে এখাতে বরাদ্দ ৩৫ কোটি টাকার মধ্যে ৩০ কোটি টাকারই ওষুধ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। 

আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ক্রমাগত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে মশা কীটনাশক সহনশীল হয়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমানে উচ্চমাত্রার কীটনাশক প্রয়োগেও মশক নিধন কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। মশা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সমন্বিত মশক নিধন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার। আর এই পদ্ধতির প্রথম ধাপ হলো পরিকল্পিত উপায়ে নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এই পদ্ধতির দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে- জৈবিক উপায়ে মশক নিধন করা।

এক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চিহ্নিত করতে হবে কোথায় মশা জন্মে; এসব জায়গায় যেন মশা জন্মাতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয় ধাপে থাকবে কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে মশামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। চতুর্থ ধাপে- জনগণকে সচেতন করে মশার প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই সমন্বিত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগ তৃতীয় ধাপ হলে বর্তমানে তা প্রথমে প্রয়োগ করতে দেখা যায়।

খালগুলো দখলমুক্ত করতে সরকারের অনমনীয় অবস্থান দরকার বলেও মনে করে সংগঠনটি। 

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করেও দাবি করা হয় তা অনুমোদিত নকশায় বিল্ডিং কোড মেনে করা হয়েছে। একটি সুন্দর নগরের স্বার্থেই অতিদ্রুত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান- ড্যাপ’র অনুমোদন দেয়া জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়া বা অযৌক্তিকভাবে যেন ব্যয় না বাড়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ। 

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত অপচয়ের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বিআইপি। বলা হয়, ঢাকার অদূরে টঙ্গীতে তুরাগ নদের ওপর কামারপাড়া সেতুটি ভাঙতে হবে জেনেও তা নির্মাণ থেকে সরে আসছে না সরকার। এটি নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

তুরাগের ওপরই আরেকটি সেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যে উচ্চতা ধরে এই সেতু দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে বর্ষাকালে এর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও নৌযান চলাচল সম্ভব নয়। ফলে ঢাকার চারপাশে পরিকল্পিত বৃত্তাকার নৌপথ চালু করতে হলে এই সেতু দুটি ভাঙতেই হবে। অথচ দুটি সেতু নির্মাণে ব্যয় করা হচ্ছে ১১০ কোটি টাকা।