দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি মাস্ক পরাতে রাস্তায় তৎপর পুলিশ

263

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণ পদ রায় বলেছেন, ‘জোর করে কিংবা আইন প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ও সচেতনতা সৃষ্টি করে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে চায় পুলিশ।’

রোববার (২১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর ট্রাফিক বক্স সংলগ্ন পথচারী ও সাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘মাস্ক পরার অভ্যাস, করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে পুলিশের বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি।

jagonews24

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারন কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ‘মাস্ক ব্যবহারে আইন প্রয়োগ কিংবা জোর করে মানুষকে বাধ্য করতে চাই না। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ও সচেতনতা সৃষ্টি করে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে চাই। আমরা আশা করছি, সবাই নিজের ঝুঁকি বুঝতে পেরে, বিপদ বুঝতে পেরে নিজ থেকেই সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।’

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে আইজিপির নির্দেশনায় আজ থেকে পুলিশ দেশব্যাপী করোনাবিরোধী ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিট আজ থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন করোনা থেকে মুক্তি পেয়ে গেছি সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সবাইকে মাস্ক পরার বিকল্প নেই। পুলিশ সবাইকে আহ্বান জানাতে চায়, সবাই সাবধানতা অবলম্বন করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার সবচেয়ে অন্যতম মাধ্যম হলো মাস্ক পরা।’

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও বলেন,‘মাস্ক বিতরণের মাধ্যমে আমরা ম্যাসেজ দিতে চাই যে, আপনি-আমি কেউই ঝুঁকিমুক্ত নই। নিজের ঝুঁকি, পরিবারের ঝুঁকি ও দেশের ঝুঁকি মনে করে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। করোনাযুদ্ধে পুলিশ সবসময় মাঠে ছিল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করোনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায় পুলিশ।’

করোনা মোকাবিলায় পুলিশ জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে। এর আগে পুলিশ সদস্যরা মরদেহ সৎকার করেছেন। খাবার বিতরণ করেছেন। এ পর্যন্ত পুলিশের ৮৭ জন সদস্য করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজারের অধিক সদস্য। দ্বিতীয় ধাপেও পুলিশ সদস্যরা মাস্ক পরতে ও হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহারে সচেতনতা তৈরি করছেন।