শিমুলের নৈতিকতার কথা শুনে আমরাও খুশি

64

ফজরের আযান শুনলে আর চুরি করেনা শিমুল হাওলাদার। ওর মনে জাগ্রত হয়, মানুষজন নামাজ পড়ে পূন্যের কাজ করে। এইসময় চুরি করলে বিপদ হতে পারে, ধরা পড়লে গণপিটুনি দিতে পারে। কয়েকবছর আগে সিলেটে চুরি করতে যেয়ে একবার এমন হয়েছিল। তাছাড়া ভোরে মসজিদগামী লোকজনের প্রতি তার একধরনের শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে। সেজন্য আযানের আগেই কাজ শেষ করে সে।

এভাবেই কথাগুলো বলছিল গ্রীল কেটে প্রায় ৭/৮ বছর যাবত চুরি করা শিমুল। তবে ওর এবারের কাজটা বেশ ঝুঁকিপূর্নই ছিল। ইতোপূর্বে ৫ বার গ্রেফতার হওয়া শিমুল এবার দুঃসাহসিকভাবেই ঝুকি নিয়েছিল। গ্যাস লাইনের পাইপ বেয়ে রাত ৩ টার পর ফিল্মি স্টাইলে চার তলায় উঠে পড়ে শিমুল।

ব্যাপক ঝুকি নিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রান্নাঘরের আ্যকজস্ট ফ্যান ভেংগে বিশেষ কায়দায় ঢুকে পড়ে সে। এত ছোট্ট জায়গা দিয়ে ঢুকতে যেয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে রক্তও বের হয় ওর।

কানাডায় পড়ালেখা করা এবং সেখানে পার্টটাইম কাজ করা সৈয়দ আশিক মাহমুদ জানুয়ারীতে দেশে বেড়াতে আসে। কয়েকদিন আগে গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইনে অফিসিয়াল কাজ শেষে ল্যাপটপসহ দরজা খুলেই ঘুমিয়ে পড়ে আশিক। ভাগ্য সুপ্রসন্ন শিমুল সেই ঘরে হাতের কাছেই দুটো ল্যাপটপ আর একটা মোবাইল ফোন পেয়ে একই পথে নেমে পড়ে ৪ তলা থেকে। অফিসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস সমৃদ্ধ ল্যাপটপ হারিয়ে দিশেহারা আশিকের বাবা মামলা করার পর এসআই মোর্শেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চারদিনের মাথায় চোরের থলিদার মাসুদ ও চোর শিমুল অভিযোগকারীর ২ টা ল্যাপটপ ও ১ মোবাইল ফোনসহ আরও ১৭ টা চোরাই মোবাইল ফোন নিয়ে গ্রেফতার হয়। দীর্ঘদিন যাবত চুরি আর চোরাই জিনিসপত্র বেচাকেনায় জড়িত দুজনের বিরুদ্ধে সব আইনানুগ ব্যবস্থাই গ্রহন করা হয়েছে।

আশিক ও তার পরিবার সবকিছু ফেরত পেয়ে এসআই মোর্শেদের সামগ্রিক কার্যক্রমে বেজায় খুশি। তবে চোর হলেও নীতি ভালো শিমুলের নৈতিকতার কথা শুনে আমরাও খুশি!!!!

লেখক: কাজী ওয়াজেদ আলী, অফিসার ইনচার্জ , পল্লবী থানা, ডিএমপি।