শেষ ওভারে রোমাঞ্চকর জয়, সিরিজ পাকিস্তানের

99

লক্ষ্য ১৪৫ রানের। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১২ বলে দরকার ১৬ রান। পাকিস্তানের জন্য জয়ের সমীকরণটা ওত কঠিন ছিল না। কিন্তু কঠিন হয়ে যায় হঠাৎ। ১৯তম ওভারে প্রোটিয়া পেসার সিসান্দা মাগালা যে প্রথম চার বলে পাকিস্তানকে রানই নিতে দেননি, বরং তুলে নেন একটি উইকেট।

ফলে ৮ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন দাঁড়ায় সেই ১৬ রানই। হাতে এবার ৩ উইকেট। ম্যাচে তখন উত্তেজনা চরমে। পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম আর কোচ মিসবাহ উল হকেরও চোখমুখ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে যে তখন ক্রিজে কেবল মোহাম্মদ নওয়াজ।

সেই নওয়াজের ব্যাটে চড়েই শেষ ওভারে এসে রোমাঞ্চকর এক জয় পেল পাকিস্তান। ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতান নওয়াজ। ৩ উইকেটের এই জয়ে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতল বাবর আজমের দল।

উত্তেজনাকর মুহূর্তে ভুল করেছেন মাগালাই, যিনি ১৯তম ওভারে এসে প্রথম চারটি বল ডট দিয়েছিলেন। পঞ্চম ডেলিভারিতে ‘নো-বল’ দিয়ে বসেন এই পেসার। ফ্রি-হিটে আবার আটকে দেন, মাত্র এক রান নিতে পারেন হাসান আলি।

কিন্তু ওই ফ্রি-হিট ডেলিভারিটিও ছিল ‘নো-বল’। কপালগুণে আরেকটি ফ্রি-হিট পেয়ে যায় পাকিস্তান। এবার নওয়াজ ঠিকই ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন। ওই ছক্কাতেই বলতে গেলে আশা শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৬ রান।

তবে উত্তেজনা তখনও বাকি ছিল। লিজাদ উইলিয়ামসের করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম ৪ বলে মোটে ৪ রানই নিতে পারে পাকিস্তান। শেষ ২ বলে দরকার ২। মিস করলে বা আউট হয়ে গেলে হারের শঙ্কাও আছে। টানটান উত্তেজনা তখন। এমন অবস্থানে দাঁড়িয়ে পঞ্চম ডেলিভারিটি ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন নওয়াজ, জল ঢেলে দেন প্রোটিয়াদের স্বপ্নে।

নওয়াজের ২১ বলে ২৫ রানের ইনিংসটি খুব বড় না হলেও আসলে ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর ইনিংস ছিল এটিই। এর আগে ফাখর জামান ৩৪ বলে ৬০ আর বাবর আজম ২৩ বলে ২৪ করলেও বাকিদের ব্যর্থতায় একটা সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। ১ উইকেটে ৯২ থেকে ৬ উইকেটে ১১৫ রানে পরিণত হয় সফরকারিরা।

এর আগে পাকিস্তানি বোলারদের তোপে হঠাৎ ইনিংস ধস হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকারও। টপ অর্ডারের জানেমন মালান ২৮ বলে ৩৩, রসি ভ্যান ডার ডাসেন ৩৬ বলে ৫২ করার পরও পুঁজিটা বড় হয়নি স্বাগতিকদের। ২ উইকেটে ১০৯ থেকে ১৩ রান তুলতে গিয়ে আরও ৫টি উইকেট হারিয়ে বসে তারা। যে ধাক্কার পর ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ফাহিম আশরাফ ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। হাসান আলি ৩ উইকেট পেলেও ছিলেন খরুচে (৪ ওভারে ৪০)। ১৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন আরেক পেসার হারিস রউফ।