জেনি ক্ষমা চেয়েছেন: পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

161

লকডাউনের পঞ্চম দিন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে পরিচয়পত্র দেখানো নিয়ে পুলিশ ও চিকিৎসকের মধ্যে যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে তার জন্য সেই চিকিৎসককে দায়ী করেছে পুলিশ সদস্যদের সংগঠন পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

এই ঘটনায় চিকিৎসক সাঈদা শওকত জেনি সেদিন পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দাবি করে সংগঠনটি বলেছে, ‘তদুপরি, ওই নারী চিকিৎসকের অন্যায়কে সায় দিয়ে কারও সাফাই গাওয়া দুঃখজনক।’

তাদের দাবি, ওই ঘটনায় চিকিৎসক জেনির প্রতি অসৌজন্যমূলক কোনো আচরণের প্রমাণ পাননি তারা।


রোববার তুমুল আলোচিত এই ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে পাঠানো বিবৃতিতে এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

এতে বলা হয়, ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে একজন চিকিৎসকের এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণিকে মুখোমুখী দাঁড় করানোর একটি অপচেষ্টা মাত্র। কিছু লোকের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে পেশার সবাই দায়ভার গ্রহণ করবে তা অ্যাসোসিয়েশন কখনও মনে করে না। দেশের সকল চিকিৎসকদের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা সর্বদা বিদ্যমান।’

এতে বলা হয়, ‘ওই চিকিৎসক কর্তৃক সরকারি কাজে অসহযোগিতা, প্রকাশ্যে গালিগালাজ, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণে কর্তব্যরত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের নিজ নিজ ইউনিটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

রোববার এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদা শওকত জেনির গাড়ি আটকে তার পরিচয়পত্র চান নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ কাইয়ুম।

ওই গাড়িতে জেনির কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের স্টিকার সাঁটানো ছিল, তার গায়েও চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন ছিল। তারপরেও কেন পরিচয়পত্র দেখাতে হবে- এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে জেনি তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ও বলেন। ওসি কাইয়ুমও জানান, তিনিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে।

এই তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। আধা ঘণ্টা পর তিনি ঘটনাটির মীমাংসা করতে সক্ষম হন।

ডা. জেনির অভিযোগ, তাকে ভুয়া ডাক্তার বলেছেন ওসি কাইয়ুম, এক পর্যায়ে যৌন ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার শামীমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে তাকে তুলনা করেছেন।

ডা. জেনি একজন রেডিওলজিস্ট এবং বাংলাদেশে রেডিওলজিস্টদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিজ-এফডিএসআর এক বিবৃতিতে ওসি কাইয়ুমের শাস্তি দাবি করেছে।

তারা বলেছে, ‘পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা পাপিয়ার সঙ্গে পুলিশ ডা. জেনির তুলনা করেছে, যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর।’

এমনকি ডা. জেনির পাশে দাঁড়িয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও। তিনিও মনে করেন এই চিকিৎসকের গাড়ি, অ্যাপ্রোন দেখার পর তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার দরকার ছিল না।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে চলা লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বাইরে যেতে চান, তাদেরকে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

তবে চিকিৎসকদের জন্য এই পাস নেয়ার দরকার নেই। তাদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখালেই হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লকডাউনের প্রথম দিন এক চিকিৎসক পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও তাকে জরিমানা করা হয়। আরেকজনকে একটি চেকপোস্টে ‘কসাই’ ডাকার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়ে আসা গাড়িকে আটকে জরিমানা করা হয়েছে। এক চিকিৎসক পুলিশের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তাকে কারাগারে পাঠানোর ‍হুমকি দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ডা. জেনির ঘটনা চিকিৎসকদেরকে ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা বিএমএ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বলেছে, এগুলোর সুরাহা না হলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়ে যেতে পারে।