সেই বাইকার ছেলেটি করোনা আক্রান্ত

43

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সূর্যপাশা গ্রাম থেকে করোনা আক্রান্ত মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে  নিজ পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর মা সুস্থ হওয়ার পর তাকে নিয়ে মোটর সাইকেলে বাড়ি ফেরেন ছেলে জিয়াউল হাসান। এই দু’দিনের ছবিই ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এবার সেই ছেলে জিয়াউল হাসান নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার (২৪ এপ্রিল) তিনি এমপিজেন্ট রেপিডেন টেস্ট দিয়ে পজিটিভ পেয়েছেন। তবে করোনা রোগের কোনো উপসর্গ তার দেহে নেই বলে জিয়াউল  জানিয়েছেন। এরপরও নিয়ম অনুয়ায়ী তিনি আইসোলেশনে রয়েছেন।

গত ১৭ এপ্রিল নলছিটি উপজেলার সূর্যপাশা গ্রামে হোম আইসোলেসনে থাকা করোনা আক্রান্ত স্কুল শিক্ষিকা রেহানা পারভীন (৫০) এর অক্সিজেন সেচুরেশন ৭০ এর নিচে নেমে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মা’কে বাঁচানোর জন্য ৮ লিটার মাত্রার চলমান ২০ কেজি ওজনের অক্সিজেন সিলিন্ডার শরীরে বেঁধে মা’কে মোটর সাইকেলে করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান রেহানার ছেলে কৃষি ব্যাংক ঝালকাঠি শাখার কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান। মা’য়ের জীবন বাঁচাতে মোটর সাইকেলযোগে হাসপাতালে যাওয়ার দৃশ্যটি সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

বরিশাল মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে সুস্থ হয়ে ২৩ এপ্রিল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মায়ের অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৬ নিয়ে বাড়ি ফেরেন রেহানার দুই সন্তান মেহেদী হাসান মিঠু এবং জিয়াউল হাসান টিটু।জিয়া আরো জানান, তার মায়ের শারীরিক অবস্থা আগের মতো হতে কিছুটা সময় লাগবে। জিয়াউল হাসান কৃষি ব্যাক ঝালকাঠি শাখার সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন। আর তার মা রেহানা পারভীন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।