খাবার উপভোগ করাটাই আমার জন্য একমাত্র বিষয় হতো

38
ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার
ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার

আমি ছোট থেকেই প্রচুর খেতে ভালবাসতাম! পছন্দের খাবার সামনে এলে আমার কাছে দুনিয়াদারি কোনো চিন্তার বিষয় থাকতো না.. খাবার উপভোগ করাটাই আমার জন্য তখন এক ও একমাত্র বিষয় হতো !

আমাকে নিয়ে মা ও আমার বোনদের খুব সমস্যা শুরু হলো। আমাকে কোথাও বেড়াতে নিয়ে গেলে আর আমার পছন্দের খাবার সামনে পরিবেশিত হলে আমি আর কাউকে চিনতাম না শুধু খেতেই থাকতাম। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে বারবার বলা হতো আমি যেন কারো বাসায় গিয়ে আবোল তাবোল কিছু না করি 😅

প্রতিবার করবো না বলে সায় দিয়ে আসলেও কারো বাসায় ঢুকার পর আমি আবার আমার আদর্শে ফিরে আসতাম ! তখন মা অথবা আমার বোনেরা আমাকে চিমটি কাটতো যেন আমি ভদ্র বাচ্চার মত কম কম খাই। আমি তখন সকলের সামনে জোরে জোরে বলতাম, আমাকে চিমটি দাও কেন, কি সমস্যা খাবো না 😅

যাই হোক এরকম করতে করতে একসময় মনে হলো থাক, মানুষের বাসায় যেয়ে একটু ধীরে খাবো। মা শিখিয়ে দিলো, কেউ কিছু সাধলে বারবার না করবে একদমই হ্যা বলবে না।

একবার নানার বাসায় বেড়াতে যাবো, মা একটা মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে মিষ্টি কিনছিলেন। ওই দোকানের মালিক একটা বিশাল বড় রেইনবো কালারের সন্দেশ এনে আমাকে বললেন, নাও বাবু এটা খাও । আমার সাথে আমার ইমিডিয়েট বড় বোন ছিল। আমি বললাম, না আংকেল থাক আমি খাবো না, আমার বোনকে সাধলো সেও বললো আংকেল না লাগবে না। আমি ৩ বার না করে ফেলার পর, আমার বোন ৩য় বারে সুযোগটা নিয়ে সন্দেশ হাতে নিয়ে ফেললো । আমার কলিজা তখন খানখান। আমার বোন সন্দেশ পেয়েই খাওয়া শুরু করলো, আর আমার মুখ তখন লালাময় 😥।

মনে মনে লোকটাকে অভিশাপ দিচ্ছিলাম, ‘ব্যাটা খারাপ, দেখলা দুইটা বাচ্চা তো একটা সন্দেশ আনলা কেন? দুইটাই আনতা ‘! মায়ের কেনাকাটা শেষ হতে হতে আমার বোন তখন ৭ তলা সন্দেশের ৪ তলা খেয়ে ফেলছে। আমি তখনও আশায় বুক বাধঁছিলাম যে বাইরে গেলে, ওর কাছ থেকে চেয়ে খাবো ।

বাইরে বের হওয়ার সময় যত সন্নিকটে আমার বোনের খাওয়ার গতিও তত বাড়তে থাকলো। আমি ওকে বললাম, একটু আস্তে খা, গলায় ঠেকবে তো 😥। পরে বের হওয়ার সাথে সাথে মাকে বললাম, আমাকে দিতে বলেন। ওহ বলে নাহ তুই তো খাবিনা বলেছিস। পরে নীল রংয়ের শেষ তলাটুকু আমাকে খেতে দিয়েছিল 😁

আমি মনের দুঃখে ওই একতলাই চেটেপুটে খেয়েছিলুম। মোরাল অব দ্য স্টোরি, খাবার কেউ কিছু সাধলে বেশি না করার দরকার নেই, একবার না করে পরে খেয়ে ফেললেই ভাল। ভুলে আবার একাকী অচেনা কারো কাছ থেকে কিছু খেয়ে বসেন না, তখন আম, ছালা দুটোই যাবে !

লেখক: ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর), ডিএমপি।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)