বাংলাদেশের মানুষ নতুন স্ট্রেইনে আক্রান্ত হবে এবং ইন্ডিয়ার মতোই দুর্ভোগ পোহাবে

96

কোভিড ১৯ এর নিউ মিউটেশনে নাক থেকে নেওয়া নমুনার রেজাল্ট নেগেটিভ দেখালেও সেটা আসলে ভুল রেজাল্ট।

এই ভাইরাস সরাসরি এখন ফুসফুসে আক্রমণ করছে। জ্বর কিংবা কাশির মতো লক্ষণ এখানে দেখা যাচ্ছে না। শুধু শরীরে ব্যাথা, দুর্বলতা, অরুচি ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। রোগী স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ৮-১০ ঘন্টার মধ্যেই জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যাচ্ছে।

যারা গত বছর কোভিড থেকে নিরাময় হয়েছিলেন তাদের ঝুঁকি আরো বেশি কারণ তাদের শ্বাসযন্ত্র এখনো পরিপূর্ণভাবে রিকোভার হয়নি। যখন নতুন স্ট্রেইনে তারা আক্রান্ত হবে, তাদের বেঁচে থাকার হার খুব কম থাকছে। আমরা ইন্ডিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য উপাত্ত পাচ্ছি এবং এটা শুধু অ্যালার্মিংই নয়, একই সাথে ইতিহাসের সবচেয়ে মহা বিপর্যয়।

আমরা সন্দেহ করছি, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের মানুষ নতুন স্ট্রেইনে আক্রান্ত হবে এবং ইন্ডিয়ার মতোই দুর্ভোগ পোহাবে। আমাদের কলিগ যারা এই মুহূর্তে ছোট শহরগুলোতে আছেন, বিশেষ করে উত্তর পূর্বাঞ্চলে, তারা বলছেন, এটা এমন এক যুদ্ধ যেটায় ইতোমধ্যেই আমরা হেরে গিয়েছি। এখন ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের প্রাণ যতটুকু সম্ভব পারা যায় বাঁচাতে হবে।

আমরা আমাদের শহরে চারশরও বেশি শিশুকে দেখেছি যারা ১০/১২ ঘন্টার মধ্যেই মারা গেছে। প্রথম অবস্থায় তাদের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি কিন্তু ঘন্টাখানেকের মধ্যেই তাদের অক্সিজেন লেভেল ড্রপ করেছে এবং মারা গেছে।

আমরা এমনও অনেক রোগীকে পেয়েছি যারা মুম্বাই থেকে বাহিরে গিয়েছে, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৭ থেকে ২৮ জন মারা গেছে। সরকারী এবং বেসরকারী উভয় হাসপাতালেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবরে পড়েছে।

ধনী, মধ্যবিত্ত এবং গরীব সবাই এতে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ভাইরাসটা কল্পনার চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে। নতুন আরো স্ট্রেইনের আগমন হলে কেয়ামতের মতো অবস্থার সৃষ্টি হবে।

এটা একটা ওয়ার্নিং, আপনার ঘরে যারা আছে তাদের ব্যাপারে যথাযথ সতর্ক পদক্ষেপ নিন। শিশু থেকে বুড়ো সবার জন্যই। এই ভাইরাস শুধুমাত্র ইন্ডিয়াতে আর সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের সরকার এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যার্থ হয়েছে একে সামাল দিতে। কেউই এরকম পরিস্থিতির ব্যাপারে কল্পনাও করেনি। যে সকল উন্নয়নশীল দেশ আছে যাদের উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এটা আমাদের আওতার বাইরে। একে যে করেই হোক প্রতিহত করতে হবে যদি সেজন্য শক্ত লকডাউনও দেওয়ার প্রয়োজন হয় নয়তো স্প্যানিশ ফ্লুতে যেরকমটা হয়েছিল সেভাবেই আমাদের শুধু ডেড বডি গণনা করা ছাড়া আর কোনো কিছু করার থাকবে না।

ডঃ প্রদীপ সনজা
সাসুন জেনারেল হাসপাতাল
মহারাষ্ট্র