জাল টাকার মিনি কারখানা আবিষ্কার করলো গোয়েন্দা

132

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের জাল টাকা তৈরির মিনি কারখানা আবিস্কারসহ ৪৬ লক্ষ জাল টাকা উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এসময় জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের নাম- জীবন হোসেন, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও পিয়াস করিম। রবিবার (২ মে ২০২১) সকাল ১১:৩০ টা থেকে দুপুর ০২:৩০ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই মিনি কারখানার সন্ধান মেলে।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি প্রিন্টার, হিট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, ডাইস, জাল টাকার নিরাপত্তা সূতা, বিভিন্ন ধরনের কালি, আঠা এবং স্কেল কাটারসহ আরো অনেক সামগ্রী যা দিয়ে আরো কম করে হলেও দেড় কোটি জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব হতো।

গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বিপিএম-বার, পিপিএম জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পিয়াস ও ইমাম হোসেন বরিশাল পলিটেকনিকেল থেকে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেছে। ইতোপূর্বে তারা গ্রামীনফোনে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতো। বেশি টাকা প্রাপ্তির লোভে তারা বৈধ চাকরি ছেড়ে দিয়ে জাল টাকা তৈরির অবৈধ কাজে যোগদান করে। এই ২ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এর তৈরি জাল টাকার কোয়ালিটি যথেষ্ট উন্নত। আসন্ন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাকে লক্ষ্য করে জাল টাকা তৈরি করার বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

ডিসি মশিউর রহমান আরো বলেন, চক্রটি প্রথমদিকে সাভারের জ্ঞানদা এলাকায় জাল টাকা তৈরি করত। ঈদকে কেন্দ্র করে গত তিনমাস ধরে তারা কামরাঙ্গীরচরে জাল টাকা তৈরির ব্যবসা শুরু করে। চক্রটির দলনেতা জীবন। এর আগেও জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার একাধিকবার জেল হয়েছে। জেল থেকে বেরিয়ে সে আবার জাল টাকা বানানোর কাজ শুরু করে। জীবনকে বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশ অনুসরণ করছিল। অবশেষে সে ধরা পড়ে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।