লকডাউনে থেকে বেরুনের বিকল্প চিন্তা

29

লকডাউন বা কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণেই দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিচে নেমে এসেছে। তবে লকডাউন দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়। এ ক্ষেত্রে দেশে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় লকডাউন পরিস্থিতি থেকে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে সরকার। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শারীরিক দূরত্ব ও টিকা নিশ্চিত করাকে। সেই সঙ্গে গণপরিবহন, পর্যটন, সভা-সমাবেশ, সামাজিক আয়োজন আরো কিছুদিন বন্ধ রাখার কথাও বলা হচ্ছে।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচকরা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

বৈঠকে লকডাউনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী বিতরণেরও আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। আরো অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিশেষজ্ঞরা।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের বেপরোয়া চলাফেরার কারণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তৈরি হয়েছিল, অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারের কঠোর ব্যবস্থার কারণে এখন সেই সংক্রমণ অনেক নিচে নেমে এসেছে। পাশের দেশে যে অবস্থা চলছে, সেটা যদি বাংলাদেশে হয় তবে সামাল দেওয়া যাবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও লকডাউন বাস্তবায়নে এবং কালোবাজারি, মজুদদারি ও অহেতুক পণ্যের দাম বাড়ানো রোধ করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে ডিএনসিসি এলাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার পাশের সুবিধাজনক মাঠ বা উন্মুক্ত জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগর সংস্থাটির পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূলক সর্বাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বৈঠক সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাই যেকোনো পদ্ধতিতেই হোক সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। নয়তো আবারও বিপদ হতে পারে। আর সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, লকডাউন থেকে কিভাবে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসা যায় সে বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের বাইরের বিভিন্ন সংস্থা কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সেগুলো যার যার অবস্থান থেকে তুলে ধরা হয়।’ তিনি বলেন, বৈঠকে বেশির ভাগ বক্তাই ঈদের আগে গণপরিবহন চালু না করা, সীমান্ত বন্ধ রাখা, জরুরি কারণে যারা দেশে ঢুকছে, তাদের অবশ্যই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধির প্রতিটি বিষয় মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এবারের করোনা মহামারিতে বিশ্ব বুঝতে পেরেছে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কতটা জরুরি একটি বিষয়। করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া এ পৃথিবীতে মানুষ বেশিদিন বাঁচতে পারবে না। তিনি সেখানেও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভারত থেকে এই ভাইরাস আমাদের দেশেও চলে আসতে পারে। এ কারণে আগামীতে স্বাস্থ্য খাতের সব পর্যায়ের কর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষ আবারও করোনার বিষয়ে উদাসীন হলে খুব দ্রুতই দেশে তৃতীয় ঢেউ চলে আসতে পারে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকমিটির সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কমিউনিটি ক্লিনিকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী প্রমুখ।

সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।