মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদের অবস্থার উন্নতি, গ্রেপ্তার ২

113

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এদিকে আগের চেয়ে নাশিদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্বজন। নাশিদের শরীরে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করা হয়। তার ফুসফুস, যকৃৎ, বুক, পেট ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে বোমার ধাতব টুকরো বের করতে ১৬ ঘণ্টা সময় নেন চিকিৎসকরা। 

নাশিদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে মালদ্বীপ। আশা করা হচ্ছে, জাতিসংঘ থেকে অপরাধ বিষয়ে অভিজ্ঞ দু’জন কর্মকর্তা এবং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের কয়েকজন অফিসার ঘটনাটি তদন্ত করবেন। খবর এএফপির

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দু’জন এখনও কোনো তথ্য দেয়নি। তারা আরও চার ব্যক্তিকে খুঁজছে, যাদের বৃহস্পতিবারের ওই বোমা হামলার সময় দৃশ্যপটে দেখা গেছে।

এদিকে হাসপাতালে নাশিদের সঙ্গে দেখা করেছে তার পরিবার। তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন নাশিদের বোন নাশিদা সাত্তার। তার ভাই ইব্রাহিম নাশিদ বলেন, চিকিৎসকরা নাশিদের সেরে ওঠার গতিতে সন্তুষ্ট। তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয়েছে, এখন মেশিনের সাহায্য ছাড়াই সে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে ইব্রাহিম বলেন, নাশিদ আমাকে কথা দিয়েছে, সে আবারও সবার মাঝে ফিরে আসতে চায়। আমিও বিশ্বাস করি, সে পারবে।

নাশিদের অবস্থার সার্বিক উন্নতিতে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মেদ সলিহ। মালদ্বীপের রাজনীতির দ্বিতীয় শক্তিশালী নেতা ৫৩ বছর বয়সী নাশিদের ওপর হামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স। 

বাহিনীটির একজন কর্মকর্তা বলেন, বোমাটি হাতে বানানো ছিল। দূর-নিয়ন্ত্রিত বোমাটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। নাশিদের গাড়ির পাশেই পার্ক করে রাখা একটি মোটরসাইকেলে বোমাটি রাখা ছিল।

হামলার ঘটনায় এখনও কেউ বা কোনো সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। তবে নাশিদের রাজনৈতিক দল মালদ্বীপিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) মনে করছে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ব্যাপারটি জড়িত। কারণ নাশিদ দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের একজন কঠোর সমালোচক।