মা আমার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা

99

অনেক সন্তানেরা আছেন না, যারা মাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে চুমু খান! আমি সেই সন্তান কখনোই ছিলাম না! এরকম আদর বিষয়গুলোতে আমার ছোটকাল থেকেই চরম লজ্জা লাগতো।

মা চুমু খেলে, আদর করলে আমার ভীষণ ভাল লাগতো, কিন্তু এসব আমাকে দিয়ে হতো না!

২০১৬ সালে মা যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দুই সপ্তাহের মত থাকলেন তখন প্রতি দিন আর রাতে আমি মায়ের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ছিলাম!

সেই সময় অসুস্থ মাকে খাইয়ে দেয়া, চুমু দেয়া, শুইয়ে দেয়াসহ নানা কাজ করতে আমার অতটুকু লজ্জা লাগেনি! আমি মায়ের কপালে চুমু খেতাম আর মা বলতেন, আমার চালাক ছেলে সব সওয়াব কামাই করে নিয়ে নিচ্ছে!

মা আমার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা, মাকে নিয়ে ভাবলেই আমার চোখ পানিতে ভেসে যায়! এত ভালবাসার মাকে আমরা ভাই, বোনেরা ভালবেসেও ধরে রাখতে পারিনি।

২০১৬ সালের ২২ জুলাই, শুক্রবার মা আমাদের ছেড়ে চলে যান। সেই দিন জুম্মার নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে হাসপাতাল থেকে মায়ের অনুমতি নিয়ে বের হই! নামাজে, মোনাজাতে আমি অযথাই চরম অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম সেদিন! মসজিদে বসে আমার অস্থিরতা কোনোভাবেই কাটছিল না!

সবসময় মায়ের জন্য দুআ করতাম, ‘ হে আল্লাহ আমার মাকে হায়াতে তৈয়্যবা দান করুন’ আশ্চর্যের বিষয় সেদিন জুম্মাবারে আমি এই দুআ একবারও করতে পারছিলাম না, বারবার আমার জিভ ভেতর থেকে পেঁচিয়ে যাচ্ছিল, আমি এখনো জানি না কেন এমন হয়েছিল!

হঠাৎ অস্থিরতা থেকেই আমি আমার ভাই, বোনদের ফোন করা শুরু করি! আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল, আমার মা আর থাকবেন না!

শুক্রবার বাদ মাগরিব আমার প্রিয় মা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বাবা হারানোর পর মা-ই আমাদের মাথার উপর ছায়া হয়েছিলেন৷ সেই ছায়া সরে যেয়ে যখন এতিম হয়ে যাই, তখন অন্য এতিমের কষ্ট বুঝতে আমার বিন্দু পরিমাণ কষ্ট হয় না! মা ছাড়া পৃথিবী অনেক রঙের মাঝেও রঙহীন থেকে যায়! আহা জীবন!

মায়ের সাথে খুব রাগ করতাম আবার পাগলের মত, সবচেয়ে বেশি ভালও বাসতাম! একদিন মাকে হাসপাতালে বললাম, মা আসেন একটা ছবি তুলি! ছবি তোলার সময় ভাবছিলাম আহারে আমার মা টা আর থাকবে না! সন্তান হিসেবে এমন অসহায় ভাবনা যে কত কষ্টের এটা ভুক্তভোগীই জানেন।

মহান আল্লাহ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আশীর্বাদস্বরুপ দুনিয়াতে যাকে পাঠিয়েছেন, তিনি হলেন মা আর আমাদের সেই মা-ই নেই! মা ছাড়া দুনিয়া খুব কঠিন মনে হয়, মা বেঁচে থাকলে যে কাজে খুশি থাকতেন, সেই কাজ করেই ভালবেসে যেতে চাই মাকে!

মা, বাবাকে উজাড় করে ভালবাসুন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই ভালবাসা অনেক বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়! মায়েরা ভাল থাকুক, ভাল থাকুক বাবারাও!

লেখক: ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর), ডিএমপি।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)