শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের হাতছানি

68

ভানিন্দু হাসারাঙ্গার চোখরাঙানি থামিয়ে স্বস্তির জয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সিরিজ। অপেক্ষা এবার অনন্য এক স্বাদ পাওয়ার। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলেই ধরা দেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর ১টায় শুরু হবে ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে ৩৩ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি নবম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ২০১৩ ও ২০১৭ সালে দুটি সিরিজ ড্র হয়, বাকি সবগুলোয় জয় লঙ্কানদের। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এর আগে ২৮টি আসরে মুখোমুখি হয়ে লঙ্কানদের কখনও একাধিকবার হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার হাতছানি সেসব অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দেওয়ার।

রোববার প্রথম ওয়ানডেতে এক পর্যায়ে অনায়াস জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চিত্র বদলে দেন হাসারাঙ্গা। এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার জয়ও ছিল খুব সম্ভব। শেষ ৭ ওভারে যখন প্রয়োজন কেবল ৫৩ রান, হাসারাঙ্গা তখন খেলছেন ৫২ বলে ৭০ রান করে। ইসুরু উদানার সঙ্গে তার জুটিও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়া হাসারাঙ্গা আউট হন ৭৪ রানে। বাংলাদেশের জিততে এরপর আর সমস্যা হয়নি।

বোলিংয়ে যেমন একটা পর্যায়ে ভুগতে হয়েছে দলকে, তেমনি ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে হয়েছে শুরু ও শেষে। ওপেনিংয়ে লিটন দাস শূন্য রানে আউট হওয়ার পর তিনে নেমে মন্থর উইকেটে ছন্দ পাননি সাকিব আল হাসান। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দলের শুরুটা তাই ভালো হয়নি। এরপর তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে দারুণ ভিত গড়ে উঠলেও শেষটা হয়নি প্রত্যাশিত। ৪০ ওভারের পর খেই হারান মাহমুদউল্লাহ। শেষ ১০ ওভারে আসে কেবল ৬৪ রান। এর মধ্যে ৪১ থেকে ৪৮ পর্যন্ত ৮ ওভারে রান আসে মাত্র ৪০!

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাই দলের চাওয়া থাকবে শুরু আর শেষ আরও ভালো করা। রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন দাসের এমনিতে অন্তত আরেকটি সুযোগ পাওয়ার কথা। তবে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের মন্তব্যের পর তাকে নিয়ে সংশয়ের জায়গা আছে।

প্রথম ওয়ানডের সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ওপেনিংয়ের জন্য লিটনকে তার উপযুক্ত মনে হয় না। এই ব্যাটসম্যানকে মিডল অর্ডারে খেলানো নিয়ে তিনি কথা বলবেন। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সেই আলোচনা যদি হয়ে থাকে বিসিবি সভাপতির, তাহলে লিটনকে ওপেনিংয়ে বা একাদশে নাও দেখা যেতে পারে।

শেষের দিকে রান বাড়ানোর কাজটি মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনদেরই করতে হবে। আগের ম্যাচে আফিফ ও সাইফের সৌজন্যেই দল আড়াইশ ছাড়ায় শেষ পর্যায়ে। এই দুজন ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে আর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ঝড় দেখা গেলে, শেষের দাবি পূরণ হতে পারে।

ব্যাটিংয়ে তামিম-মুশফিকরা প্রথম ম্যাচে ভালো করলেও তাদের কাছে দলের চাওয়া থাকবে মাঝারি ইনিংসগুলোকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার।

বোলিংয়ে প্রথম ম্যাচে বিবর্ণ ছিলেন কেবল তাসকিন আহমেদ। ধীরগতির উইকেটে গতির ওপর জোর দিতে গিয়ে সফল হননি তিনি। তাকে নিয়ে হয়তো ভাববে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আরেকটি সুযোগ তিনি দাবি করতেই পারেন।

সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচের ঘাটতিগুলো পূরণ করে আরও পরিপাটি পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সিরিজ জয়ের আশা পূরণ না হওয়ার কারণ নেই। এই ম্যাচ জিতলে শুধু সিরিজ জয়ই নয়, আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে শীর্ষেও উঠে যাবে বাংলাদেশ।