রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সাংসদ আউয়াল

105

রাজধানীর পল্লবীর সাহিনুদ্দিন খান (৩৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও তরীকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক সাংসদ এম এ আউয়ালসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে আউয়ালের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামি নূর মোহাম্মাদ হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে বাবুকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ২৪ মে সুমন ব্যাপারী নামের আরেক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সাহিনুদ্দিন ১৬ মে বিকেলে সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। এ সময় পূর্বপরিচিত দুই ব্যক্তি মুঠোফোনে সাহিনুদ্দিনকে পল্লবীর ডি ব্লকে ডাকেন জমিজমা নিয়ে বিবাদ মীমাংসার জন্য। সাহিনুদ্দিন সেখানে গেলে ছেলের সামনেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, পল্লবীর ডি ব্লকের ৩১ নম্বর রোডে দুই তরুণ দুই পাশ থেকে সাহিনুদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারীদের একজন চলে যান। অন্যজন ওই ব্যক্তির ঘাড়ে কোপাতে থাকেন মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত। পরে পুলিশ ফুটেজ দেখে একজনকে মানিক ও অন্যজনকে মনির বলে শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগম সাবেক সাংসদ আউয়ালসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিংয়ে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানিক নিহত হন। আর গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে সাগুফতা হাউজিং এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ‘গোলাগুলির’ সময় মনির নিহত হন।

পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের বুড়িরটেকে (আলীনগর) সাহিনুদ্দিন ও তাঁদের স্বজনদের ১০ একর জমি রয়েছে। সাহিনের মা আকলিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁদের জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে আউয়াল ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বরেও সন্ত্রাসীরা সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করেছিল। সেই ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো আউয়ালের দেওয়া মিথ্যা মামলায় সাহিনুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। খুন হওয়ার কিছুদিন আগে সাহিনুদ্দিন জামিনে মুক্তি পান।