রোববারে ফাইজারের টিকা আসছে

103

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আগামী রোববার বাংলাদেশে পৌঁছবে।

এই টিকা বাংলাদেশে প্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান বলেন, “৩০ মে রোববার দুপুরে কাতার ওয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে এসব টিকা আসার কথা রয়েছে।”

ফাইজারের এই টিকা বাংলাদেশ পাচ্ছে টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকে।

দেশে করোনাভাইরাসের টিকা সঙ্কটের মধ্যে গত ১৯ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি এক লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আগামী ২ জুন আসবে। তবে তার দুদিন আগেই এই টিকা আসছে।

ফাইজারেরটিসহ করোনাভাইরাসের চারটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ।গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ফাইজারের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এখন এ টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে।


গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের জরুরি ব্যবহার্য টিকার তালিকায় ফাইজারের ভ্যাকসিনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড বা সিনোফার্মের তৈরি টিকার মতোই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাও নিতে হবে দুই ডোজ করে। প্রথম ডোজ দেওয়ার ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ।

১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ওপর ফাইজারের টিকা প্রয়োগ করা যাবে। চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালে এ টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে উৎপাদকদের ভাষ্য।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকারিতা দেখালেও ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহের কাজটি কোভিশিল্ডের মত সহজ নয়।

কোভিশিল্ড যেখানে সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব, সেখানে ফাইজারের টিকা মাইনাস ৯০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ টিকা ২ ডিগ্রি থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৫ দিন রাখা যাবে। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ টিকা দুই ঘণ্টা ভালো থাকবে।