গাঁজার খামারের সন্ধান, পুলিশ পেল বিট কয়েন কারখানা

42

পুলিশ গিয়েছিল গাঁজার খামারের সন্ধানে। তবে পেয়েছে অনেক কম্পিউটার যন্ত্রাংশ। পরে তারা বুঝতে পারে, সেখানে বিটকয়েন তৈরি বা ‘মাইনিং’ করা হতো। তা-ও আবার চুরি করা বিদ্যুতে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্যান্ডওয়েলের গ্রেট ব্রিজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে কিছু একটা চলছে, এমন খবর পেয়েছিল ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ। গত ১৮ মে সেখানে হানা দেয় তারা। তবে সারি সারি গাঁজার গাছের বদলে পেয়েছে সারি সারি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ। সেখানে প্রায় ১০০টি কম্পিউটার ইউনিট ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা তৈরির কারখানাটি হাজারো ব্রিটিশ পাউন্ডের বিদ্যুৎ চুরি করেছে। ওই ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ওয়েস্টার্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন পরে জানতে পেরেছে যে সেখানে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হয়েছিল।

ভবনটিতে দিনব্যাপী অনেক মানুষের যাতায়াতের খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। সেখানে ড্রোন পাঠালে ভবনটি থেকে বেশ উত্তাপ ছড়ানোর তথ্য পায় তারা।

এতে সেখানে গাঁজার চাষ হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া হয়। সার্জেন্ট জেনিফার গ্রিফিন বলেন, ‘গাঁজা চাষের সব লক্ষণই সেখানে ছিল। আমার ধারণা, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে এ নিয়ে এমন দুটি ক্রিপ্টোকারেন্সি কারখানা পাওয়া গেল।’কম্পিউটার যন্ত্রাংশগুলো জব্দ করা গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের ধারণা প্রথম প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালে। এর কোনো কেন্দ্রীয় আর্থিক ব্যবস্থা নেই। ব্লকচেইন নামের ডেটাবেইসে সব ধরনের লেনদেন লিপিবদ্ধ হয়।

অ্যালগোরিদমের সমাধান দিয়ে বিটকয়েন মিলতে পারে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় মাইনিং। অনেক কম্পিউটার যন্ত্রাংশ একসঙ্গে চলার জন্য এতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

ক্যামব্রিজ বিটকয়েন ইলেকট্রিসিটি কনজাম্পশন ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে বিটকয়েন পরিচালনায় যত বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা গোটা নেদারল্যান্ডসের বিদ্যুতের চাহিদার চেয়েও বেশি।