মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার মা

102

গাজীপুরে মায়ের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন উম্মে হুমায়রা বিজলী (১৭) নামে এক কিশোরী মারা গেছেন। ঘটনার পাঁচদিন পর গত বুধবার ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

হুমায়রা বিজলী গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা বজলুর রহমান একটি কারখানায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত।

তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুরপুরে। তবে বাবার চাকরি সূত্রে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাসন থানাধীন চান্দনা গ্রামের বুড়ির মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত বিজলী।

এদিকে, মেয়ের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা বজলুর রহমান বাদী হয়ে বাসন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে নিজের স্ত্রী হেলেনা বেগমকে আসামি করেছেন তিনি।

মামলার পর বৃহস্পতিবার (২৭ মে) হেলেনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৮ মে) আসামি হেলেনা বেগমকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে গত ২১ মে রাতে মেয়ে হুমায়রা বিজলীকে শাসন করছিলেন তার মা হেলেনা বেগম। একপর্যায়ে মেয়ে বিজলীর গায়ে কোরোসিন ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন হেলেনা। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভায়।

তিনি আরও জানান, আগুনে গুরুতর দগ্ধ বিজলীকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বার্ণ ইউনিটে নেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হেলেনা বেগরে মেয়ে উম্মে হুমায়রা বিজলী উশৃঙ্খল জীবনযাপন করতো। তার বিভিন্ন আচরণে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করতো। রাগের মাথায় শাসন করতে গিয়ে মা হেলেনা মেয়ের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।