রাজধানীতে এলএসডি মাদকসহ গ্রেফতার ৫

165

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এলএসডিসহ (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। এরা হলেন- সাইফুল ইসলাম সাইফ, এস এম মনওয়ার আকিব আনান, মো. নাজমুস সাকিব, নাজমুল ইসলাম এবং বি এম সিরাজুল ইসলাম সালেকীন ওরফে তপু। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ এলএসডি উদ্ধার করা হয়। গতকাল ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আবদুল আহাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএমপির পল্টন থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গ্রেফতার পাঁচজনের কাছ থেকে ২ হাজার মাইক্রোগ্রাম ওজনের ১২ পিস ব্লটার পেপার, এলএসডি বিক্রির ৪৬ হাজার টাকা, ১০০ ডলার, গাঁজা, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার মালিবাগ ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা সবাই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

ডিবি আবদুল আহাদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে সাইফ, আনান ও সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাইফের কাছ থেকে এলএসডি মিশ্রিত তিন পিস ব্লটার পেপার, আকিবের কাছ থেকে এক পিস ও সাকিবের কাছ থেকে এক পিস ব্লটার পেপার উদ্ধার করা হয়। ওই তিনজনের তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থেকে নাজমুল ও তপুকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকেও ছয়টি ব্লটার পেপার ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা এক বছর ধরে এলএসডি মাদক সেবন ও ব্যবসা করে আসছিলেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে এলএসডি মাদক কিনে কুরিয়ার ও বিভিন্ন ব্যাগেজের মাধ্যমে দেশে আনতেন তারা। এলএসডি মাদক সেবন ও বিক্রির চক্রে আরও অনেক সদস্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ ১৪-১৫টি এলএসডি মাদক সেবন ও বিক্রির গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে। যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা এলএসডি সেবনের পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। পুলিশ অন্য গ্রুপগুলোকে শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ২৬ মে এলএসডিসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে গ্রেফতার করে ডিবি। এরা হলেন সাদমান সাকিব ওরফে রুপল, অসহাব ওয়াদুদ ওরফে তূর্য ও আদিব আশরাফ। তাদের কাছ থেকে ২০০ ব্লট এলএসডি উদ্ধার করা হয়। নেদারল্যান্ড থেকে এলএসডি এনে তারা বিক্রি করতেন। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এলএসডি মাদক পুরনো হলেও সম্প্রতি বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনটি চালান ধরা পড়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন নয়জন। কয়েক বছর ধরে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত তরুণরা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এলএসডি মাদক এনে বিক্রি করছে।