১০ হাজার কনস্টেবল নেবে পুলিশ

205

একটা সময় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে জনপ্রতি ৮/১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হত। টাকার অঙ্ক শুনে অনেক যোগ্য ও মেধাবী তরুণ ফরমও নিত না। কনস্টেবল পদপ্রত্যাশী বেশিরভাগ তরুণই দরিদ্র পরিবারের। এসব মেধাবী তরুণদের পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তবে বদলে গেছে এ চিত্র।

২০১৯ সালে পুলিশ সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পেয়েছিলেন দরিদ্র পরিবারের মেধাবী তরুণ-তরুণীরা। পুলিশে কনস্টেবল (ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল-টিআরসি) প্রায় ১০ হাজার কনস্টেবল নেবে বাংলাদেশ পুলিশ।

চলতি বছরের জুন মাসেই নিয়োগের নতুন এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এবার কনস্টেবল পদে আবেদনের জন্য শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে।

পুলিশের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে জানা গেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত হলে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়েই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

২০২০ সালের শেষের দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত কিছু মানদণ্ড নির্ধারণের কারণে তা পিছিয়ে যায়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া জুনে শুরু হয়ে প্রায় দুই মাস চলমান থাকবে।

কয়েক বছর ধরে কনস্টেবল পদে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড ছিল ন্যূনতম জিপিএ-২.৫ সহ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। তবে এবার যোগ্যতার মানদণ্ড কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। কনস্টেবল আবেদনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এছাড়া এবার নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চতা ও বুকের মাপে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। এতদিন পুরুষদের কনস্টেবল হওয়ার জন্য উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ও নারীদের জন্য ৫ ফুট ২ ইঞ্চি ছিল। এবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নারীদের উচ্চতার মানদণ্ড ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি করা হতে পারে। আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২০ বছর।

পুলিশ সদরদফতরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। নিয়োগবিধিতে কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। সেটি এখনও অনুমোদিত হয়নি। সংশোধনী অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে জুন মাসের মধ্যেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

স্বচ্ছতা ও তদবির কমাতে নিয়োগবিধিতে সংশোধনী আনা হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা দেয়া থাকবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতায় যারা এগিয়ে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদরদফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা বলেন, নিয়োগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে নিয়োগবিধিতে কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত হলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১০ হাজারের মতো ফোর্স রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধাপে ধাপে আরও ৫০ হাজার পুলিশ নিয়োগের নির্দেশনা দেন। তবে করোনার কারণে ২০২০ সালে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।