ইংল্যান্ডের জয়

55

একাদশ দেখে চোখ কুঁচকানো লোকের অভাব হয়নি। ইংল্যান্ড দলে এবার প্রতিভার অভাব নেই। কাকে রেখে কাকে নিই—এমন অবস্থায় দল নির্বাচন করা একটু কঠিনও। গ্যারেথ সাউথগেটের একাদশ নিয়েই তাই প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু ৯০ মিনিট শেষে সাউথগেটই সঠিক বলে প্রমাণিত হলেন।

ইউরোতে কখনো জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ওদিকে ক্রোয়েশিয়া কখনো হার দিয়ে শুরু করেনি কোনো ইউরো। এমন এক ম্যাচেই হাতে দুজন দুর্দান্ত লেফট ব্যাক থাকা সত্ত্বেও কিয়েরেন ট্রিপিয়ারের মতো এক রাইটব্যাককে রক্ষণের বাঁ দিকে পাঠিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ। কিন্তু ঠিকই নতুন ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘ফুটবলকে ঘরে ফেরানো’র আরেকটি যাত্রার শুভসূচনা করল দলটি।

সাউথগেটের একাদশের আরও একজনকে নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছিল। আক্রমণে হ্যারি কেইন যে থাকবেন, এ নিয়ে কারও মনে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু তাঁর সঙ্গী হিসেবে কাকে নেওয়া হবে, এ নিয়ে আগ্রহ ছিল। বাজে ফর্মের মধ্য দিয়ে যাওয়া ও কয়েক দিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে নিজের ছায়াকে তাড়া করে ফেরা স্টারলিংকেই মার্কাস রাশফোর্ডের চেয়ে বেশি পছন্দ হলো সাউথগেটের। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণিত করে জয় এনে দেওয়া গোলটি ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ডের।

গোল প্রসঙ্গে স্টার্লিংয়ের নাম প্রথমে নেওয়াটা অন্যায় হয়ে যায়। কারণ, এ গোলের গল্পের পুরোটা ক্যালভিন ফিলিপসের। লিডসে মার্সেলো বিয়েলসার কারণে মাঝমাঠে ভূমিকা বদলে গেছে তাঁর। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে আজ যেন নিজের নতুন আর পুরোনো দুই ভূমিকাতেই নেমেছিলেন ফিলিপস। যখন দরকার হয়েছে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হয়ে ক্রোয়েশিয়ার খেলা নষ্ট করেছেন। কখনো সত্যিকারের একজন কন্ডাক্টরের মতো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আবার দরকারের মুহূর্তে বল পায়ে ড্রিবলিং করে ছুটেছেন ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণের দিকে।

৫৭ মিনিটে তেমনই এক দৌড়ে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ছুটলেন। চোখে লেগে থাকার মতো কোনো ড্রিবলিং নয়, কিন্তু লেগে থাকা ক্রোয়েশিয়ার দুই ফুটবলারকে ছিটকে ফেলে দিতে সেটাই যথেষ্ট ছিল। বক্সের একটু সামনে এসে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়ে দিলেন স্টার্লিংয়ের দিকে। ক্রোয়াট গোলকিপার লিকাকোভিচ চেষ্টা করেও কোনো বড় টুর্নামেন্টে স্টারলিংয়ে প্রথম গোলটি আটকাতে পারলেন না।

একদিকে ফিলিপস, মেসন মাউন্ট, ফিল ফডেনরা গতিময় ফুটবলকে অস্ত্র মেনেছেন, ওদিকে লুকা মদরিচরা খেলার গতি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ইভান রাকিতিচের অবসর ক্রোয়েশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। মার্সেলো ব্রোজোভিচ ও মাতেও কোভাচিচরা মদরিচকে সেই ভরসা দিতে পারেননি, যা ইস্পাতদৃঢ় মানসিকতা আর অনায়াস নিয়ন্ত্রণে দিতে পারতেন রাকিতিচ। মারিও মানজুকিচের অবসরও আক্রমণে অনেক বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা আন্তে রেবিচ বা ইভান পেরিসিচ পূরণ করতে পারেননি। তাই দূরপাল্লার শট দিয়েই ম্যাচের ফল বদলানোর চেষ্টা করতে হয়েছে পিছিয়ে পড়া ক্রোয়েশিয়া।

ইংল্যান্ড অবশ্য আরও বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে ফিরতে পারত। ৬১ মিনিটে হ্যারি কেইনকে গোলবঞ্চিত করেছেন ইয়োসকো গভারদিওল। বল ধরতে গিয়ে পোস্টে মাথা লেগে কেইনের শুয়ে পড়ায় কিছুক্ষণের জন্য ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছিল। মিনিট ১২ পর স্টারলিং একটুর জন্য দ্বিতীয় গোল করতে পারেননি। অবশ্য প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক দল।

৫ মিনিটে দারুণ দক্ষতায় নেওয়া শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসায় গোল পাননি ১৯৯৬ ইউরোর ‘ফুটবলকে ঘরে ফেরানো’কে আদর্শ মেনে চুলের ছাঁট দেওয়া ফডেন। দিনটা তাই অন্য এক তরুণের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ৮২ মিনিটে কেইনের বদলি নেমেছেন জুড বেলিংহাম। ইউরোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড আপাতত ১৭ বছর ৩৪৯ তম দিন বয়সী এই মিডফিল্ডারের কাছে।