ইসলামী বক্তা নিখোঁজের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ, অভিযোগ পরিবারের

49

ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ জিডি (সাধারণ ডায়েরি) বা মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি এবং তার তিন সহযোগী। ঘটনার দিন নিজ জেল রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের অভিযোগ :
আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে দারুসসালাম ও মিরপুর থানায় গেলেও সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেনি তারা। পরে রংপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ বলছে, তিনি ঠিক কোন জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেই মামলা নেয়া হয়নি।

এ দিকে আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেছেন, আদনান বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাত ২টা ৩৭ মিনিটে আদনানের সাথে শেষ কথা হয়। তিনি তখন বলেছেন কাছাকাছি চলে আসছেন। তিনি তখন গাবতলী ছিলেন। এরপর রাত ৩টা থেকে তার ফোন বন্ধ পাই, এখন পর্যন্ত নম্বর বন্ধই পাচ্ছি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরো তিনজন সহকর্মী ছিলেন।

ওই তিন সহকর্মী ও গাড়িটিরও কোনো খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তার পরিবার। তবে ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

মামলা দায়ের না করার কারণ জানতে চাইলে সাবেকুন নাহার পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, কোথায় মামলা করবো, কার কাছে অভিযোগ করবো? মামলা করবো কী, কেউ তো জিডিই নিতে রাজী হচ্ছে না।’

তিনি বলেছেন, স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার বিকেলেই পুলিশের শরণাপন্ন হন তারা। কিন্তু রোববার বিকেল পর্যন্ত গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলাগ্রহণ করেনি।

সাবেকুন নাহার অভিযোগ করেন, ‘থানায় ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। কোনো থানাই দায়িত্ব নিচ্ছে না, এক থানা আরেক থানাকে দেখিয়ে দিচ্ছে।’

তবে আদনানের মায়ের পক্ষ থেকে রোববার সকালে রংপুর সদর থানায় এ নিয়ে একটি জিডি করা হয়েছে।

পুলিশ কী বলছে?
আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দারুসসালাম ও মিরপুর থানার সাথে যোগাযোগ করা হলে মিরপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ স্বীকার করেছেন যেকোনো সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেননি তারা।

তিনি কারণ হিসেবে বলছেন, ‘তিনি (আদনান) কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেই লোকেশনটা তো আমরা নিশ্চিত না। তিনি গাবতলী থেকে নিখোঁজ হয়েছে, সেটা তো আমরা জানি না। সেক্ষেত্রে যেখান থেকে তিনি রওনা হয়েছেন, সেই রংপুর অথবা তার ঢাকায় যেখানে বাসা, সেখানে জিডি হতে পারে বা মামলা হতে পারে।’

এখন পুলিশ আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

তোফায়েল আহমেদ আহমেদ বলেছেন, এজন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, গাবতলী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আদনানকে বা তার গাড়িকে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো বিভাগ নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ৩১ বছর বয়সী এই বক্তাকে ফেসবুক ও ইউটিউবে অনেকেই অনুসরণ করেন। এই মুহূর্তে আদনানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এবং তার সন্ধান চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চলছে।

সূত্র : বিবিসি