সিরিয়ার আফরিন হাসপাতালে হামলা, নিহত ১৮

50

উত্তর সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত আফরিন শহরে এক হাসপাতালে মিসাইল হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিরিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এই কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আফরিনের আল-শিফা নামে ওই হাসপাতালে হামলায় নিহতদের মধ্যে এক চিকিৎসক ও হাসপাতালের তিন কর্মী রয়েছেন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও দুই নারী রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে সংস্থাটির পরিচালক রামি আবদুর রহমান জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা করা হয় এবং পরে হাসপাতালে তা আঘাত করে।

বিবৃতিতে উত্তর আলেপ্পো থেকে এই হামলা করা হয়েছে বলে জানানো হয়, যেখানে ‘ইরান ও (সিরীয়) সরকারের অনুগত যোদ্ধারা মোতায়েন রয়েছে, যার কাছাকাছি কুর্দি বাহিনী চলাচল করছে।’

হামলায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এদিকে আফরিনে হামলার জন্য কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়াইপিজেকে দায়ী করছে তুরস্ক। তবে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি সশস্ত্র সংগঠনটি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০১১ সালের মার্চে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার একনায়ক বাশার আল আসাদের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাস্তায় বিক্ষোভে নামে সাধারণ জনতা। বাশার আল-আসাদ সামরিক উপায়ে এই বিক্ষোভ দমন করতে চাইলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে দেশটি।

গৃহযুদ্ধে দেশটি মোটা দাগে সিরীয় সরকার, সরকারবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

দশ বছর চলমান এই গৃহযুদ্ধে দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকই বাস্তুচ্যুত হয়। জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসারে এক কোটির বেশি লোক যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়।

অপরদিকে ১০ বছরের যুদ্ধে সিরিয়ায় অন্তত ছয় লাখ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই