দেশে করোনায় আক্রান্তদের ৭৮ ভাগই ভারতীয় ধরন

30

দেশে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮ ভাগের দেহে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বা ভারতীয় ধরন পাওয়া গেছে। জুন মাসে করা করোনার জিনোম সিকোয়েন্সে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

রোববার সন্ধ্যায় আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ডিসেম্বর থেকে দেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে জুন মাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে দেখা যায়, করোনায় আক্রান্তদের ৭৮ ভাগই ডেল্টা ধরনে সংক্রমিত হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়ে নতুন চেহারা ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করছে, যা ভ্যারিয়্যান্ট নামে পরিচিত। সংক্রমণের গতি, রোগের জটিলতা (মৃত্যু হার ও হাসপাতালে ভর্তির হার), রোগ পরবর্তী ও টিকা গ্রহণ পরবর্তী রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বিবেচনায় কিছু কিছু ভ্যারিয়্যান্টকে ভ্যারিয়্যান্ট অব কনসার্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন- আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা ভ্যারিয়্যান্ট।

সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি ২০১৯ সালে চীনে প্রথম শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেকগুলো ভ্যারিয়্যান্ট পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে সংক্রমিত মানুষদের মধ্যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটির ভ্যারিয়্যান্ট শনাক্তের জন্য দেশে এ রোগটি শনাক্ত হওয়ার শুরু থেকে আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর’বি যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত মোট ৬৪৬টি সংগৃহীত করোনার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব নমুনায় করোনার আলফা ভ্যারিয়্যান্ট (ইউকেতে প্রথম শনাক্ত), বিটা ভ্যারিয়্যান্ট (সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত), ডেল্টা ভ্যারিয়্যান্ট (ভারতে প্রথম শনাক্ত), ইটা ভ্যারিয়্যান্ট (নাইজেরিয়াতে প্রথম শনাক্ত), বি- ১.১.৬১৮ ভ্যারিয়্যান্ট (আন আইডেন্টিফাইড) শনাক্ত হয়েছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিকোয়েন্সিং করা সব নমুনায় আলফা ভ্যরিয়্যান্ট পাওয়া যায়। মার্চ মাসের সিকোয়েন্সিং করা নমুনার ৮২ ভাগ নমুনায় বিটা ভ্যারিয়্যান্ট ও ১৭ ভাগ নমুনায় আলফা ভ্যারিয়্যান্ট পাওয়া গেছে। এপ্রিল মাসেও দেশে করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে বিটা ভ্যারিয়্যান্টের প্রাধান্য ছিল। এপ্রিলে ভারতীয় (ডেল্টা) ভ্যারিয়্যান্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ ধরনের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। মে মাসে ডেল্টা ধরন ৪৫ ও জুন মাসে তা বেড়ে ৭৮ ভাগ শনাক্ত হয়েছে।