কোম্যান বার্সা কোচের চাকরিটা হারালেন

118

লা লিগায় ১০ ম্যাচ শেষ। বার্সার অবস্থান টেবিলের ৯ নম্বরে। সবশেষ কবে এমন দৃশ্য দেখেছিলো ফুটবল ভক্তরা? এখানেই শেষ নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩ ম্যাচ খেলে দু’টিতে হার। বাকি এক ম্যাচে পুচকে ডাইনামো কিয়েভকে হারাতেও ঘাম ছুটে যায় বার্সার। বলা চলে পুরোপুরি খাদের কিনারায় কাতালান ক্লাবটি।

দলের প্রতিনিয়ত এমন অধঃপতন একদমই সহ্য হলো না বার্সেলোনার সভাপতি জোয়ান লাপোর্তার। শেষমেশ রায়োর মাঠে হারের পর মধ্যরাতে কোচ রোনাল্ড কোম্যানকে ডেকে এনে বন্দুকের ট্রিগার চেপেই দিলেন। চাকরিটা কেড়ে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য জানিয়ে দিলেন শুভকামনা।

মূলত চলতি সপ্তাহে চিরপ্রতিদ্বন্ধী রিয়াল মাদ্রিদের সাথে এল ক্ল্যাসিকোতে ২-১ গোলের হার এবং ঢিলেঢালা পারফরম্যান্সের পর নড়েচড়েই বসে বার্সা বোর্ড। সবশেষ ভায়োকানোর মাঠে অঘটনের শিকারের পরই কোম্যানের চাকরি হারানোটা একপ্রকার নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিলো। অবশ্য, বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো যেকোনো মুহূর্তে চাকরি হারাতে পারেন বার্সা কোচ রোনাল্ড কোম্যান।

কোচের ওপর যে শুধু বোর্ড অসন্তুষ্ট এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। এল ক্ল্যাসিকোতে হারের পর কোম্যান নিজের গাড়িতে করে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময়ই একদল তরুণ সমর্থক তাকে আক্রমণ করে। তার গাড়ি আটকে রাস্তার মাঝেই বিক্ষোভ করেন তারা। গাড়িতে আঘাত তো বটেই পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় তাকে কথাও শোনান সমর্থকগোষ্ঠী। কোনোরকমে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন কোম্যান।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে বার্সা জানায়, এফসি বার্সেলোনা প্রথম দলের কোচ হিসেবে রোনাল্ড কোম্যানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ক্লাবের সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে পরাজয়ের পর তাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রোনাল্ড কোম্যান বৃহস্পতিবার দলের সবার কাছ থেকে বিদায় নিবেন। তাকে ধন্যবাদ এফসি বার্সেলোনা ক্লাবে তার সেবার জন্য এবং ভবিষ্যতের পেশাগত ক্যারিয়ারে শুভকামনা রইলো।

খেলোয়াড় জীবনে বার্সাকে সবচেয়ে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন কোম্যান। ১৯৯২ সালে তার গোলেই প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জিতে বার্সা। এজন্য আরেক বার্সা লিজেন্ড ও ডাচ খেলোয়াড় ক্রুইফের ‘ড্রিম ইলেভেন’-এ জায়গা করে নিয়েছিলেন বার্সা লিজেন্ড কোম্যান।

তবে বার্সার প্রধান কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নিজের সেরাটা দিতে পারেনি কোম্যান। অথচ বছরখানেক আগে যখন পুরো বার্সা ধুঁকছিলো তখন নিজের দেশের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ঠিকই হাল ধরেছিলেন প্রিয় ক্লাব বার্সার। বলেছিলেন, ‘সবাই জানে বার্সা আমার স্বপ্নের ক্লাব।’ সেই ক্লাবেই একের পর এক ব্যর্থতার দায় নিয়ে মধ্যরাতে বিদায় নিতে হলো কোম্যানকে।