অক্সি-মরফোনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

131

রাজধানীর কোতয়ালী ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে ১৩,০০০ পিস অক্সি-মরফোনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেফতারকৃতদের নাম মোঃ আলমগীর সরকার ও জাহিদুল ইসলাম।

গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর, ২০২১) ধারাবাহিক অভিযানে কোতয়ালী থানার বাবু বাজার এলাকা ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ধানমন্ডি শাখায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর, ২০২১) কোতয়ালী থানার বাবু বাজার এলাকা ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ধানমন্ডি শাখায় অভিযান চালিয়ে অক্সি-মরফোনসহ আলমগীর ও জাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এসংক্রান্তে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা রুজু হয়।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সি-মরফোন বিক্রয় ও বাজারজাত করার অনুমোদন দেয়। যা নির্দিষ্ট কোম্পানির নিকট হতে লাইসেন্স প্রদর্শনপূর্বক পরিবহনের রুট প্রদর্শন করে এবং কার কাছে বিক্রয় করা হবে তা প্রদর্শন করে গ্রহণ এবং বিক্রয় করতে হয়। দেশে অক্সি-মরফোন আমদানি ও বিক্রয়ের জন্য একমাত্র লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। যারা সারা বাংলাদেশে ১২০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলারের মাধ্যমে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সরবরাহ করে থাকে। গত ৫ মাসে ৫ লাখ ডোজ অক্সি-মরফোন বিক্রয় করেছে তারা। এটি শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এর অনুমোদিত পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু মামলাটি তদন্তকালে পরিলক্ষিত হয়, ইদানিং ওরাল ফরমেটে অক্সি-মরফোন খুচরা বাজারে ব্যাপক হারে বিক্রয় হচ্ছে। যুব সমাজ (Young Generation) বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অক্সি-মরফোন গুড়ো করে যেকোন সিরাপ বা পানীয় এর সাথে মিক্স করে মাদক হিসেবে ব্যবহার করছে, যা উদ্বেগের কারণ।

তিনি বলেন, অক্সি-মরফোন হলো মরফিনের একটি এনালগ, যা একটি এনালজেসিক ড্রাগ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি ইনজেকশন থেকে ওরাল ফর্মে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি মূলত কাজ করে Central Nurve System এ (ব্রেইনে)। তীব্র ব্যথানাশক হিসেবে ক্যান্সার, হার্ট, দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর তীব্র ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।

মাদক হিসেবে অক্সি-মরফোন ব্যবহারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, অক্সি-মরফোন একটি ইউফোরিক ড্রাগ। যা মস্তিষ্কে প্রচন্ড আনন্দ অনুভূতি তৈরি করে। শরীরে সাময়িকভাবে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা ভুলিয়ে দেয়। ব্যথার সিগনাল গিয়ে মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করতে পারে না। মস্তিষ্ক বোধহীন অসাড় হয়ে যায়। ক্রমাগতভাবে অক্সি-মরফোন ব্যবহারে এটির প্রতি নির্ভশীলতা তৈরি হয়। ব্যবহারকারীরা এটি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার অপরাধকান্ডে জড়িয়ে পরে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রাজীব আল মাসুদ, বিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং কোতয়ালী জোনাল টিমের টিম লিডার অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুর রহমান আজাদ এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।