৪৪ তম বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষার্থীদের জন্য

38

বিসিএস জীবনের সব নয়, তাই শুরুতেই দুঃশ্চিন্তা বন্ধ করুন। আপনার চেষ্টা ছিলো এটাই আপনার শক্তি হোক। আগামীকাল পরীক্ষা তাই আপনি এ মুহূর্তে যতো চিন্তা করবেন ততোই পরীক্ষায় তার প্রভাব পড়বে। আপনাদের জন্য কয়েকটি শেষ সময়ের দিক নির্দেশনা।

আজ (২৬.০৫.২০২২):

১. আজ রাতেই আপনার পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ( এডমিট,কলম একটু মোটা দাগ পড়ে এমন একাধিক,পেন্সিল ইত্যাদি) গুছিয়ে রাখুন আগামীকাল যেন তাড়াহুড়োতে ভুল না হয়।
২. ঘুমিয়ে যান রাত ১১ টার আগে। ১০ টা হলে আরও ভাল। যা হওয়ার হবে। আজ রাত জাগার ফল ভাল হবে না।
৩. পরীক্ষা কেন্দ্রের লোকেশান জেনে যাওয়ার জন্য প্লান করে রাখুন।

আগামীকাল (২৭.০৫.২০২২):

৪. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠুন, প্রার্থনা শেষে হালকা শরীর চর্চা (১০-১৫ মিনিটের বেশি নয়) করতে পারনে। সকালের নির্মল বাতাসে একটু হাঁটতে পারেন।
৫. নাস্তা করে রেডি হয়ে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হবেন, যেন নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন। পৌঁছাতে বিলম্ব হলে এর প্রভাব পরীক্ষায় পড়বে।
৬. কোন অতিরিক্ত সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করার চেষ্টা করবেন না।
৭. পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ওএমআর শীটে পূরনের পূর্বে পেন্সিল দিয়ে নির্ধারিত ঘরে ডট দিয়ে নিন। যেন কোন ভুল না হয়।
৮. প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে পূরণ করা সেটকোড মিলিয়ে নিন।
৯. প্রশ্ন উত্তর শুরু করুন। আপনাকে ১নং প্রশ্ন থেকে শুরু করতে হবে এমন নয়। আপনার জন্য যে অংশটা সহজ মনে হয় সেখান থেকে শুরু করুন।
১০. ঠান্ডা মাথায় প্রশ্ন পড়ুন। একাধিক বার পড়ুন সম্ভব হলে। কিন্তু উত্তর দেওয়ার সময় কনফিউজড হবেন না।
নিশ্চিত হয়ে উত্তর দিন।
১১. যে প্রশ্নগুলোর চারটি উত্তর এর ভেতর দুইটির একটা হবে আপনি নিশ্চিত কিন্তু কোনটা হবে বুঝতে পারছেন না সেটা প্রশ্নের নম্বরে একটু চিহ্ন দিয়ে রাখুন। যেন শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনে উত্তর দিতে পারেন।
১২. একটা একটা করে ওএমআর পূরণ না করে আগে ফুল কনসেনট্রেশান দিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নে চিহ্নিত করুন তারপর একসাথে ওএমআর পূরন করুন তবে একসাথে ৮/১০ টার বেশি নয়।
১৩. সবপ্রশ্ন গুলো একবার দেখার পর আপনি একটা গণনা করে দেখুন কতগুলো উত্তর দিয়েছেন তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিন। আপনার প্রশ্ন ও প্রস্তুতি থেকে বুঝার চেষ্টা করুন এই প্রশ্ন কত নম্বর পেলে আপনি সেভ জোনে থাকবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
১৪. পরবর্তীতে প্রশ্ন উত্তরের সময় খুব সতর্কতা অবলম্বন করুন। কোনভাবেই পুরো চারটার ভেতর অনুমান নির্ভর উত্তর দিবেন না। শুধু যে প্রশ্ন গুলোর চারটার ভেতর আপনি দুইটা হবে না সেটা নিশ্চিত কিন্তু বাকি দুইটার কোনটা সঠিক সে বিষয়ে কিছুটা কনফিউজড সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। ঐ দুইটার ভেতর যেটা হওয়ার সম্ভবনা বেশি মনে হচ্ছে সেটাই উত্তর দিবেন।
১৫. জানা প্রশ্নগুলো যেন একটা উত্তরও ভুল না হয় তাই প্রশ্নটা দুইবার পড়ার চেষ্টা করবেন।
১৬. সকল পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখুন। পরীক্ষা কেন্দ্রে শব্দ হলে বিনয়ের সাথে কক্ষ পরিদর্শককে অনুরোধ করুন।

আর একটা কথা বলি, কোন অবস্থায় পরীক্ষা হলে প্রবেশের পূর্বে কতগুলো উত্তর দিতে হবে বা হবে না এটা মাথায় নিয়ে যাবেন না। পরীক্ষার হলে ঠিক করবেন এই মানের প্রশ্নে কতগুলো সঠিক উত্তর হলে উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। এমনও হতে পারে আপনাকে ১৩০+ পেতে হচ্ছে, আবার এমনও হতে পারে আপনি ৮০+ স্কোর করতে পারলে উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছেন। যেটা নির্ভর করবে প্রশ্নটা কেমন হলো তার উপর।

আমি আবারও বলছি পরীক্ষা কেন্দ্র একটা ভিন্ন জায়গা মাথা ঠান্ডা রাখা ও সময়ের সঠিক ব্যবহার হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সবার জন্য শুভকামনা থাকবে।

মুহম্মদ শামীম কিবরিয়া
সিনিয়র সহকারী সচিব
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়